মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় গৃহহীনদের জন্য ২৪৫টি ঘর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ঘরগুলোর ইটের দেয়াল গাঁথুনি, প্লাস্টার, রঙিন টিনের চালাসহ অন্যান্য কাজ শেষের দিকে রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তৃতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে এ উপজেলায় ২৪৫টি ঘর নির্মাণ হচ্ছে। প্রতিটি ঘরের নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭৫ টাকা। ঘরগুলোর নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে। এরই মধ্যে পাকেরদহ চরের ঘরগুলোর নির্মাণকাজ শেষের পথে। কাজলা ইউনিয়নের পাকেরদহ গ্রামে নবনির্মিত ইউনিয়ন পরিষদের দক্ষিণ-পূর্বাংশে শেষের পথে রয়েছে ৫০টি ঘরের নির্মাণকাজ। এরই মধ্যে ঘরগুলোর ইটের গাঁথুনি, প্লাস্টার, রঙিন টিনের চালাসহ অন্যান্য কাজ সমাপ্ত হয়েছে। মাটি কেটে অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায় এসব ঘর নির্মাণ করা হয়। তাই এ আবাসন এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।

অল্পদিনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হলে গৃহহীনদের ঘর ও ২ শতাংশ জমির মালিকানা দলিল বুঝিয়ে দেয়া হবে। একই ঘরে বারান্দা, টয়লেট ও রান্না করার সুবিধা থাকছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটফুলবাড়ী ইউনিয়নের চরডোমকান্দি গ্রামেও চলছে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে পাকা ঘরের নির্মাণকাজ। এরই মধ্যে প্রস্তাবিত এলাকায় মাটি ভরাটের কাজ সমাপ্ত হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন বলছে, চরডোমকান্দি এলাকায় ১২৫টি ও সুজনের পাড়ায় ১০০টি ঘর নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্তাব রয়েছে। জমির পরিমাপের দিকে খেয়াল রেখে ঘর নির্মাণ করা হবে। জায়গা সংকুলান না হলে বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের পাকেরদহ গ্রামের হাকিম খাঁর ছেলে মতিন খাঁ জানান, ১৯৯০ সালে প্রথম নদীভাঙনের পর মাথা গোঁজার জন্য ঘর তৈরি করেন সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়নে। সেটিও ভেঙে গেলে তৃতীয়বার কাজলার টেংরাকুড়া চরে ঘর নির্মাণ করা হয়। ২০০৭ সালে টেংরাকুড়া চর ভেঙে গেলে এখন বর্তমানে এই পাকেরদহ চরের জমিতে ঘর তুলে কয়েক বছর ধরে বসবাস করে আসছি। তিনি তিনবার নদীভাঙনের শিকার হন। তার সব জমি যমুনা নদীতে ভেঙে গেছে। চাষেরও কোনো জমি নেই। তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন আগে প্রশাসন থেকে লোকজন এসে নাম-ঠিকানা নিয়ে যায়। এখন শুনছি সরকারিভাবে পাকা ঘর করে দেয়া হয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে কাঁচা ঘরে থেকে রোদ, বৃষ্টি ও ঝড়ের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। এবার সরকারের পাকা ঘর পেলে শান্তি পাওয়া যাবে।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, পাকেরদহ চরে ৫০টি ঘর গৃহহীনদের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। শিগগিরই তালিকা অনুযায়ী তাদের বরাদ্দ দেয়া হবে। আগামী জুনের মধ্যে এ প্রকল্পের ঘর নির্মাণকাজ শেষ করা হবে। বাকি ঘরগুলো নির্মাণের জন্য প্রকল্প এলাকায় কাজ চলছে।