অনেকটা ভঙ্গুর অবস্থায় চলছে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল। তীব্র চিকিৎসক সংকটে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া রয়েছে চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবও। ফলে জেলার হাজারো মানুষ প্রতিদিন সেবা নিতে এসে আশাহত হয়ে ফিরে যাচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষ সরকারি চিকিৎসা সেবা না পেয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩৭ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও হাসপাতালটিতে বর্তমানে কর্মরত আবাসিক চিকিৎসকসহ মাত্র সাতজন। ফলে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা প্রতিনিয়তই মুখোমুখি হচ্ছেন নানা হয়রানির। চিকিৎসকের অভাবে এ রোগীদের নিয়মিতই দ্বারস্থ হতে হয় বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে। ফলে একদিকে রোগীদের ভোগান্তি যেমন বাড়ে তেমন বাড়ে চিকিৎসা ব্যয়।
যথাযথ উদ্যোগের অভাবে প্রায় ছয় মাস বিকল অবস্থায় পড়ে আছে জেনারেল হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি। কার্যক্রম ও ডাক্তারের অভাবে অচল পড়ে আছে হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনও।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জেনারেল হাসপাতালের আশপাশে ২০টির মতো বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। জেনারেল হাসপাতালের কিছু চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে তারা হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি ঠিক করানোর কোনো উদ্যোগ নিতে বাধা দিচ্ছে। ফলে রোগীরা বাধ্য হচ্ছেন এসব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে তাদের জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, এ হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক বদলি হয়ে এলে তার কিছুদিন পরই তারা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে যান। ফলে চিকিৎসকের সংকট প্রতিনিয়তই লেগে থাকে এখানে।
হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন ও চিকিৎসক শূন্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী জালাল আহমেদ জানান, এক্স-রে মেশিন মেরামত এবং চিকিৎসকের অপর্যাপ্ততার ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালক মহোদয়কে (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) জানানো হয়েছে।
তবে অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগ হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিচালক ফরিদ আহমেদ জানান, ফরিদপুরের সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন বিকল হয়ে আছে এমন কোনো বিষয় জানানো হয়নি। তারা নতুন এক্স-রে মেশিনের জন্য কোনো আবেদনও করেনি। আমাকে এ ব্যাপারে জানানো হলেই নতুন এক্স-রে মেশিনের ব্যবস্থা করা হবে।









