কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে ফের অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় বাহিরচর ইউনিয়নের পশ্চিম বাহিরচর ও চররূপপুর মৌজার মুন্সিপাড়া ও টিকটিকিপাড়া ঘাটসংলগ্ন তড়িয়ামহল এলাকায় দ্বিতীয়বারের মতো লাল পতাকা স্থাপন করা হয়। একইসঙ্গে বালু পরিবহনে ব্যবহৃত পাইপলাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিরুল আরাফাতের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়। এতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. গাজী আশিক বাহার ও ভেড়ামারা থানার পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাহিরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদীসংলগ্ন ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। নির্বিচারে বালু তোলার কারণে সেখানে নদীভাঙন বেড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক বছরে ভাঙনে শত শত একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে নদী ও পরিবেশের পাশাপাশি আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে হার্ডিঞ্জ সেতু, লালন শাহ সেতু, ভারত-বাংলাদেশ যৌথ বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে।
অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে এলাকায় অস্থিরতা, সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও ঘটেছে। নদী ও পরিবেশের ওপর এর বিরূপ প্রভাব নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে গত ৬ জুন প্রথম দফায় পুরো বালুমহালে লাল পতাকা স্থাপন করে উপজেলা প্রশাসন। এর আগে ৪ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বাহিরচর ইউনিয়নের বালুমহালের সড়কসংলগ্ন এলাকায় লাল পতাকা টাঙিয়েছিল।
তবে নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতা উপেক্ষা করে একটি অসাধু চক্র বালু উত্তোলন ও সরবরাহ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ অবস্থায় বুধবার ফের অভিযান চালিয়ে তড়িয়ামহল এলাকায় লাল পতাকা স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি বালু পরিবহনের পাইপলাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিরুল আরাফাত জানান, তড়িয়ামহলে দ্বিতীয়বারের মতো লাল পতাকা স্থাপন করা হয়েছে। এর আগে সেখানে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডও দেয়া হয়েছিল। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে।
প্রশাসনের ধারাবাহিক পদক্ষেপের পরও একটি অসাধু চক্র বালু উত্তোলনের চেষ্টা করছে বলে তিনি জানান। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।










