বাংলাদেশী অভিবাসীদের মধ্যে ৭৩ শতাংশেরই অভিবাসন চাওয়ার প্রধান কারণ দেশে চাকরি ও জীবিকার সুযোগের অভাব। ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক এক কর্মশালায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ও আইওএম যৌথভাবে কর্মশালাটির আয়োজন করে।
এ সময় বলা হয়, দেশের সব জেলার নাগরিকই অভিবাসনের চেষ্টা করেন। তবে আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ মাদারীপুর, শরীয়তপুর এবং ফরিদপুর জেলা থেকে ইতালিতে অভিবাসন নিয়েছেন। ২০২৩ সালে ইতালিতে পাড়ি জমানো এ তিন জেলার বাসিন্দাদের ৯০ শতাংশই ছিল ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী।
আরো বলা হয়, কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাবে অনেক ব্যক্তি ইউরোপ বিশেষ করে ইতালিতে পৌঁছানোর জন্য অবৈধ পথ অবলম্বন করেন। ইতালিতে গমনের চেষ্টাকারী বাংলাদেশীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেন। যেটি খুবই বিপজ্জনক এবং অসংখ্য মানুষকে সাগরে ডুবে প্রাণ দিতে হয়। অর্থনৈতিক কষ্ট ও পরিবেশগত পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে তারা এমনটি করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অনুবিভাগ) খন্দকার মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, আমাদের দেশের নাগরিকদের অভিবাসনের প্রধান কারণ দারিদ্রতা। চাকরি কিংবা অর্থ উপার্জনের পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করা না গেলে মানুষ উন্নত দেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখবেই। এর ফলে বাড়ছে অবৈধ অভিবাসন। এটি ন্যাচারাল কারণ। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা না গেলে এটি বন্ধ হবে না। অপরদিকে অবৈধ অভিবাসন মানব পাচারের বড় কারণ। দারিদ্রতার কারণে মানুষ উন্নত জীবনের স্বপ্নে অবৈধ অভিবাসনের পথ বেছে নিচ্ছে যেটিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে মানব পাচারকারীরা। এ বিষয়ে স্টেকহোল্ডার থেকে শুরু করে অভিবাসন প্রত্যাশী সবার মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে জানান তিনি।
আইওএম বাংলাদেশের ডেপুটি মিশন প্রধান ফাতিমা নুসরাত গাজ্জালী বলেন, প্রতিবছর অসংখ্য বাংলাদেশী অবৈধভাবে অভিবাসনের চেষ্টা করে থাকে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী এ সময় অনেক প্রাণহানিও ঘটে। এটি উদ্বেগের। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। তাদেরকে বৈধভাবে অভিবাসনের পথগুলো তুলে ধরতে হবে। এ বিষয়ে তাদের শিক্ষিত করে তুলতে হবে। তবেই অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার রোধ করা সম্ভব হবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ শাহীন বলেন, অবৈধ অভিবাসনের গোড়াপত্তন হয় পারিবারিক ও সামাজিকভাবে। সেজন্য এটিকে শুধু আইন বা প্রশাসন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এটির জন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন। সবাইকে সচেতন করতে হবে। তবেই নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব।
এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ব্যুরো অব ম্যান পাওয়ার এমপ্লয়মেন্ট এবং ট্রেইনিং (বিএমইটি), ওয়েজ আর্নার ওয়েলফেয়ার বোর্ড, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিস লিমিটেড (বিওইএসএল), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)-সহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।










