আমরা তিন বোন এখন বাবা ডাকব কাকে! দুই মাস আগে বাবা যাওয়ার সময় বলেছিল—বিদেশে গিয়ে আমাদের ভাগ্য বদলাবে, কিন্তু আমরা তো এতিম হয়ে গেলাম।’ এভাবেই আর্তনাদ করছিল দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুন্সিগঞ্জের রাজিক বেপারির বড় মেয়ে ১৬ বছর বয়সী রামিসা। এ সময় একইভাবে প্রবাসী বাবার ছবি নিয়ে আহাজারি করছিল রামিসার অন্য দুই বোনও।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাত্র আড়াই মাস আগে জীবিকার তাগিদে কন্যাসন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন রাজিক বেপারি। গত মঙ্গলবার বিকালে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মুন্সিগঞ্জের দক্ষিণ কালিন্দিপাড়া এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। মুহূর্তেই স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে সেখানকার পরিবেশ।
নিহতের স্বজনরা জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন (বর্তমান কোমানি) থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের সমো এলাকায় একটি সুপার শপ ও ইলেকট্রনিকস দোকানে সোমবার ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এ সময় দোকানের ভেতরে থাকা আবাসিক কক্ষে সাতজন ঘুমিয়ে ছিলেন। এর মধ্যে রাজিক বেপারিসহ ছয় বাংলাদেশী আগুনে পুড়ে মারা যান। একজন আহত অবস্থায় প্রাণে রক্ষা পান।
নিহত রাজিক বেপারি (৫২) মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার দক্ষিণ কালিন্দিপাড়া এলাকার মৃত সালাম বেপারির ছেলে। তার মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী।
খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সমবেদনা জানিয়েছেন সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজানা আক্তার। তিনি জানান, নিহতের পরিবারকে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।










