চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়ে খোলা চিঠি দিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল সই করা চিঠিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
প্রধান উপদেষ্টা দফতরে আজ এ পত্র দাখিল করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে যে সাফল্য দেখিয়েছে, তা সর্বমহলে সমাদৃত। । বিশেষ করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে উদ্ভূত অচলাবস্থা জাতীয় অর্থনীতির জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিঠিতে ব্যবসায়ী নেতারা উল্লেখ করেন, 'চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদে'র আগামীকাল থেকে ঘোষিত লাগাতার ধর্মঘট ও বহির্নোঙরে কার্যক্রম বন্ধের ডাক আমাদের শিল্প ও বাণিজ্যে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, বন্দরে কর্মরত প্রতিটি শ্রমিক-কর্মচারী আমাদের অর্থনীতির অগ্রযাত্রার সম্মুখসারির সহযোদ্ধা। তাই নির্বাচনের এ গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে শিল্প, বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে আন্দোলনকারী ও বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সব পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার ভিত্তি নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি।
চিঠিতে বলা হয়, বিগত সাত দিন ধরে ব্যবসায়ী সংগঠন সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সংলাপ ও সমন্বয় সভা করেছে, যেন বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আস্থার সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো ফলপ্রসূ সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে আন্দোলনকারীরা বন্দরের বহির্নোঙরে বার্থিং ও পণ্য খালাস বন্ধের ঘোষণা দেয়ায় পুরো বন্দর অচল হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
চিঠিতে ব্যবসায়ী নেতারা অচলাবস্থার ফলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন। এতে বলা হয়, দেশের ৯৯ শতাংশ কনটেইনার এবং ৭৮ শতাংশ সমুদ্রপথের বাণিজ্য এ বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হলে তৈরি পোশাকসহ সব প্রধান রফতানি খাত অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। আসন্ন রমজান সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামালবাহী জাহাজ খালাস না হলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে, যা দ্রব্যমূল্যকে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ঠেলে দেবে। বন্দরে জাহাজ জট ও কার্যক্রম স্থগিতের ফলে প্রতিদিন আমদানিকারকদের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা 'ডেমারেজ চার্জ' হিসেবে পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি বিশাল বোঝা। এনসিটি ইজারা সংক্রান্ত বিরোধটি বর্তমানে কর্মচারী ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সাংঘর্ষিক অবস্থানে পৌঁছেছে। বিশেষ করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও তদন্তের উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরো জটিল ও উত্তপ্ত করে তুলেছে বলে আমরা মনে করি।
তারা প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের চারদিন আগে দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনো প্রকার ব্যাঘাত ঘটা আমাদের কারোরই কাম্য নয়। এমতাবস্থায়, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে আমরা আপনার ব্যক্তিগত ও সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করছি।
তারা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সব পক্ষই আপনার বিজ্ঞ সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে। একমাত্র আপনার বলিষ্ঠ দিকনির্দেশনাই পারে এ সংকটময় অচলাবস্থা নিরসন করে একটি সম্মানজনক ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার সময়োপযোগী পদক্ষেপই বর্তমান স্থবিরতা কাটিয়ে দেশকে স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে যাবে।










