ঢাকার ১৩টি আসনে ১ হাজার ৪০০টির বেশি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। গতকাল সেগুনবাগিচায় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এ কথা জানান। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা প্রস্তুতি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় ১ হাজার ৪০০টির মতো কেন্দ্র আমরা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছি। সেখানে স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হবে।’
শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি ঢাকা মহানগরীর ১৫টির মধ্যে ১৩টি আসনের রিটার্নিং অফিসার। আমাদের তরফ থেকে যেসব প্রস্তুতি নেয়া প্রয়োজন তা মোটামুটি সবগুলোই সম্পন্ন করতে পেরেছি।’
সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং করা ও বিচার ব্যবস্থার জন্য ৮০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রতি আসনে দুজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। শরফ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এগুলোর প্রতি নজরদারি থাকবে এবং আমাদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট যারা নিয়োজিত আছেন তাদেরও এ তালিকা দেয়া আছে এবং তাদের বলা হয়েছে এগুলো যাতে বিশেষভাবে তারা নজরদারির মধ্যে রাখে। আমাদের প্রতিটি বাহিনী এখানে নিয়োজিত আছে। প্রতিটি কেন্দ্রে আমাদের স্ট্রাইকিং ফোর্স আছে। প্রায় ৮০ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত আছেন, তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন।’
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, ‘সবগুলো কেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার চেষ্টা করেছি। অতিগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে শতভাগ আসছে। আমাদের হিসাবে ৯৮ শতাংশের বেশি কেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আছে। আনসারের দুজন করে সদস্যকে ট্রেনিং করানো হয়েছে। প্রতিটা কেন্দ্রে তারা থাকবেন এবং সেখানকার কেন্দ্রের পরিস্থিতি রিয়েল টাইম ছবি নিয়ে আপলোড করতে পারবেন, যেটা আমরা এখান থেকে মনিটর করতে পারব।’
বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে কক্ষের মধ্যে ভোট গণনা করা হবে, সেটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে যেন অন্ধকার না হয়, এজন্য যেখানে ভোট গণনা হবে সেখানে একটা এসিডিসি বাল্ব যেন লাগানো থাকে, তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। কোনো কারণে যদি বিদ্যুৎ চলে যায়—এটা টেকনিক্যাল বিষয়, হতেই পারে। এক সেকেন্ডের জন্য যাতে আমার ভোট গণনার কক্ষটা অন্ধকার না হয় সেটি আমরা এনসিওর করেছি।’
শরফ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রার্থীরা কো-অপারেট করেছেন। এখন পর্যন্ত প্রার্থীদের দিক থেকে এমন কোনো চাপ অনুভব করিনি। তারা আমাদের শতভাগ সাপোর্ট করেছেন।’
সহিংসতা বা ভোটের ফলাফল নিয়ে যদি কোনো সমস্যা হয় সেক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে কী ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে জানতে চাইলে শরফ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের এত ডেপ্লয়মেন্ট সেই জন্যই। যেকোনো ধরনের সিচুয়েশন সামাল দেয়ার মতো অবস্থা আমাদের আছে। আমাদের প্রায় ৫২টা অভিযোগ এসেছিল, আমরা তার সবগুলো অ্যাড্রেস করেছি।’









