চলতি মাসের শুরুতে টানা কয়েক দিনের বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় বান্দরবানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তলিয়ে যায় লোকালয় ও সড়ক। বিদ্যুৎ ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বান্দরবান। একই সঙ্গে সড়কধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রুমা ও থানচি উপজেলা। একই কারণে বন্ধ হয়ে যায় থানচি-আলীকদম অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগও। সড়কের ওপর পাহাড়ের মাটিধসে পড়ায় বন্ধ হয়ে যায় বান্দরবান-রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়ক।
১০ আগস্ট জেলা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়। ক্রমে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১১ আগস্ট থেকে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কে ছোট যানবাহন চলতে শুরু করে, যা বর্তমানে স্বাভাবিক। গতকাল সকাল থেকে বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কও চালু করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তবে অনিশ্চয়তায় রয়েছে রুমা ও থানচি উপজেলা সড়ক যোগাযোগ।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোসলেহ্ উদ্দিন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মূলত গত বৃহস্পতিবার থেকে বান্দরবান-রোয়াছড়ি সড়ক মোটরসাইকেল চলাচলের উপযুক্ত করা হয়েছে। গত রোববার থেকে ছোট যাত্রীবাহী যান চলাচলের উপযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল থেকে বাস চলাচলের উপযুক্ত হয়েছে সড়কটি। এছাড়া বৃষ্টি কমে যাওয়ার পর থেকে রুমা, থানচি ও থানচি-আলীকদম সড়কে সেনাবাহিনীর প্রকৌশল শাখার চারটি টিম কাজ করছে। এর মধ্যে থানচি-আলীকদম সড়কটি চালু হবে সহসাই। রুমা ও থানচি সড়কে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় ওই দুই উপজেলার সড়ক চালু হতে বিলম্ব হতে পারে।’
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সৈয়দ আমির হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বান্দরবান সদর উপজেলায় ৯০ শতাংশের বেশি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। রোয়াংছড়ি উপজেলায়ও বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় মালপত্র নিয়ে যান চলাচল করতে না পারায় রুমা ও থানচি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। সড়ক যোগাযোগ চালু হলে দ্রুত ওই দুই উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।’
এদিকে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে নৌপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যাতায়াত করছেন রুমা ও থানচি উপজেলবাসী। নিয়ন্ত্রণ না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন দুই উপজেলার নৌযাত্রীরা। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যেরও দাম বেড়েছে ওই দুই উপজেলায়।










