সৌদি আরব যাওয়ার জন্য মেনিনজাইটিসের টিকা না পেয়ে ঢাকার পান্থপথে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন প্রায় ৩০০ প্রবাসী। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ওমরাহ যাত্রী ও ভিজিট ভিসার যাত্রীরাও ছিলেন। আজ মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সকালে টিকার দাবিতে তারা স্কয়ার হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

পুলিশসূত্রে জানা যায়, সৌদি সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ওমরাহ ও ভিজিট ভিসায় সৌদি আরব যেতে হলে মেনিনজাইটিসের টিকা বাধ্যতামূলক। এই টিকা নিতে মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে গেলে যাত্রীরা টিকা না পেয়ে ফিরে আসেন। পরে তাদের স্কয়ার হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু সেখানে গিয়েও টিকা না পেয়ে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেন।

স্কয়ার হাসপাতালের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. ফয়সাল জামান বলেন, সকাল সাড়ে আটটা থেকে প্রবাসীরা টিকার জন্য আমাদের হাসপাতালে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু আমাদের কাছে কোনো টিকা নেই। যা ছিল তা আগের দিন পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। নতুন করে টিকা আমদানিতে অন্তত ১০-১৫ দিন সময় লাগবে।

তিনি আরো বলেন, আগে প্রতিদিন পাঁচ-ছয়টি টিকার চাহিদা ছিল। এখন হঠাৎ এত মানুষ টিকা চাইতে আসায় আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। এটি একটি স্লো-মুভিং টিকা, যা অর্ডার দেয়ার পরেও সময় নিয়ে আসে। টিকা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান রেডিয়েন্ট ফার্মার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারাও বলছে, এই মুহূর্তে টিকা সরবরাহ সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, হজ যাত্রীরা সরকারি হাসপাতাল থেকে নিয়মিত এই টিকা নিতে পারেন। তবে ওমরাহ যাত্রীদের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সৌদি সরকারের নতুন নির্দেশনার আলোকে জানায়, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেনিনজাইটিস টিকা গ্রহণ বাধ্যতামূলক। সৌদি আরবে যাওয়ার অন্তত ১০ দিন আগে টিকা নিয়ে সনদসহ ভ্রমণ করতে হবে। তবে এই টিকা শুধুমাত্র ওমরাহ ও ভিজিট ভিসার যাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য। কাজের ভিসার যাত্রীদের জন্য টিকা প্রয়োজন নেই বলে বেবিচক জানিয়েছে।

বিক্ষোভরত যাত্রীরা জানান, বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে তাদের স্কয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে প্রতিদিন মাত্র ১০-১৫টি টিকা দেওয়া হয়, যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বিক্ষোভের সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।