লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠা ও নারীর ক্ষমতায়নের আহ্বান জানিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করেছে পিএসটিসি। গতকাল রোববার (৮ মার্চ) নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ উদ্যোগে নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতার বিরুদ্ধে জোরালো বার্তা দেয়া হয় এবং অধিক অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও লিঙ্গসমতাভিত্তিক বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনটি জানায়, লিঙ্গ সমতা একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং বৈশ্বিক অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য। এ লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে সরকার, প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সব স্তরের মানুষকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এ বছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘‌লিঙ্গ সমতার জন্য উদ্যোগ ত্বরান্বিত করুন’। প্রতিপাদ্যে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের ওপর প্রভাব ফেলছে এমন কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা ও পক্ষপাত দূর করতে তাৎক্ষণিক ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রতিপাদ্যে কর্মক্ষেত্র, পরিবার ও সমাজে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

আয়োজনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নারী ও মেয়েদের নেতৃত্বের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, বিশ্বজুড়ে নারী ও মেয়েরা জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজন, প্রশমন ও প্রতিক্রিয়া কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। টেকসই উন্নয়ন ও সহনশীল ভবিষ্যৎ গঠনে তাদের নেতৃত্ব ও সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ ধরনের উদ্যোগে অগ্রভাগে থাকা নারী নেত্রীদের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে পিএসটিসি।

প্রতি বছরের মতো এবারও সংগঠনটি তার কার্যক্রম এলাকা ও প্রধান কার্যালয়ে দিবসটি পালন করে। ৯ মার্চ ২০২৫ পিএসটিসির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় স্টাফ সদস্যরা দিবসটির তাৎপর্য, নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার, লিঙ্গ বৈষম্য এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ পরিবার থেকেই শুরু হওয়া উচিত। কারণ প্রাথমিক সামাজিকীকরণের মধ্য দিয়েই সামাজিক মূল্যবোধ ও আচরণ গড়ে ওঠে। পিতামাতা, শিক্ষক ও সমাজের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের ছোটবেলা থেকেই সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মানসিকতা গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখার ওপর জোর দেয়া হয়।

পিএসটিসি জানায়, নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়নে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সম্প্রদায়ভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শিক্ষা, পেশাগত প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ জোরদারে কাজ করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে লিঙ্গভিত্তিক নেতিবাচক ধারণা দূর করা, নারীর অংশগ্রহণের পথে বাধা কমানো এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, লিঙ্গ সমতা শুধু নারীদের বিষয় নয়, এটি পুরো সমাজের উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। নারীর অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাপূর্ণ সমাজ গঠন সম্ভব।

এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমান গতিতে অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে বিশ্বজুড়ে নারীদের জন্য বিদ্যমান আইনগত সুরক্ষার ঘাটতি পূরণ হতে প্রায় ২৮৬ বছর সময় লাগতে পারে। অনেক দেশে এখনো শিশুবিবাহের অনুমতি রয়েছে, যার ফলে প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মেয়েশিশু তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ হারাচ্ছে।

এ বাস্তবতায় লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন বক্তারা।