বাগেরহাট সদর উপজেলার কোমরপুর এলাকায় ভৈরব নদের পাড়ের সামাজিক বনায়নের গাছ রক্ষার অজুহাতে শতাধিক কৃষকের বিভিন্ন ধরনের সবজি গাছ কেটে ফেলেছে প্রতিপক্ষরা। রোববার বিকালে জেএমকে সামাজিক বনায়ন সমিতির সভাপতি অশোক কুমার ভৌমিক ও সদস্য আলতাফ শেখের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জন কৃষকের সবজি গাছ কেটে নষ্ট করেন। এতে ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

কৃষকরা জানান, ভৈরব নদের পশ্চিম পাশে কোমরপুর এলাকায় নিজ মালিকানা ও সরকারি জমি লিজ নিয়ে মৎস্য ঘের করতেন কাটাখালী গ্রামের শতাধিক কৃষক। কয়েক বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভৈরব নদ খনন করে। খননের পর থেকে মৎস্য ঘেরসংলগ্ন নদীর তীরে কৃষকরা নানা রকম সবজি আবাদ করতেন। ২০২০-২১ অর্থবছরে সামাজিক বন বিভাগ এ নদীর পাড়ে ২০ হাজার ফলদ ও বনজ গাছ রোপণ করে। বনায়নের পরও সামাজিক বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বাঁধের ওপর স্থানীয় কৃষকরা ঢেঁড়স, লাউ, করল্লাসহ নানা ধরনের সবজি চাষ করেন। কিন্তু জেএমকে সামাজিক বনায়ন সমিতির সভাপতি অশোক কুমার ভৌমিক ও তার সদস্যরা কৃষকদের গাছ লাগাতে নিষেধ করতেন। তাদের নিষেধ না মানায় সমিতির সভাপতি অশোক কুমার ভৌমিকের নেতৃত্বে কৃষকদের সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। অশোক কুমার ভৌমিকের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন কৃষকরা।

কৃষক শেখ এনায়েত বলেন, ‘বন বিভাগের অনুমতি সাপেক্ষে নিজেদের মৎস্য ঘেরসংলগ্ন ভৈরব নদের তীরে নানা ধরনের সবজি লাগিয়েছিলাম। কিন্তু গাছ রক্ষার অজুহাতে জেএমকে সামাজিক বনায়ন সমিতির সভাপতি অশোক কুমার ভৌমিক ও তার লোকজন আমাদের গাছগুলো কেটে ফেলেছেন। আমার ঘেরের বাসাও ভেঙে ফেলেছেন তারা। মূলত গাছ রক্ষা তাদের মূল উদ্দেশ্য নয়, আমরা যাতে সবজি ও ঘেরে মাছ চাষ না করতে পারি এজন্য তারা এটা করেছেন।’

অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য কাওছার আলী মোড়ল বলেন, ‘বেশির ভাগ গাছে ফুল এসেছিল, ফলও হয়েছিল কিছু গাছে। গাছ কেটে আমাদের শেষ করে দিয়েছে।’

বারুইপাড়া ইউনিয়নের ৫ নং (কাটাখালী) ওয়ার্ডের সদস্য আবু সাইদ বলেন, ‘গাছ কাটায় কাটাখালী এলাকার শতাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’

সমিতির সভাপতি অশোক কুমার ভৌমিক বলেন, ‘‌বন বিভাগের নির্দেশে আমরা সবজি গাছ কেটেছি। বন বিভাগের গাছ রক্ষার জন্যই সবজি গাছ কাটা হয়েছে।’ সামাজিক বন বিভাগ বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ এসএফএনটিসির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চিন্ময় মধু বলেন, ‘কৃষকদের সবজি গাছ কাটতে কাউকে অনুমতি দেয়া হয়নি। তবে গাছ কাটার একটি খবর পেয়েছি। দুই পক্ষকে খবর দেয়া হয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।’