ঈদুল ফিতর উপলক্ষে  দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কেউ গেছেন সীমান্তের ওপারে ভারতে থাকা নিকট আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে। কেউবা গেছেন সীমান্ত এলাকা ঘুরতে। তবে বিজিবির বাধায় সীমান্তে একত্রিত হতে না পেরে দুর থেকে দেখে ফিরে যান তারা। এতে অনেকেই আক্ষেপ প্রকাশ করেন। একটি দিনের জন্য হলেও সীমান্তে কিছু সময়ের জন্য মিলিত হওয়ার অনুমতির দাবী জানিয়েছেন তারা। 

শনিবার ঈদের নামাজের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল, সিএনজি, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস নিয়ে দর্শনার্থীরা হিলি সীমান্ত এলাকার ভিড় করতে থাকেন। বৃটিশ আমলে নির্মিত রেললাইন এলাকা ঘুরে ঘুরে অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি ধারণ করেন। কেউ কেউ সীমান্তের রেললাইন ও তারকাটা বেড়ার পাশে দাঁড়িয়ে সীমান্তের ওপারে অপেক্ষমাণ স্বজনদের সঙ্গে হাত নেড়ে কথা বলার চেষ্টা করেন। 

রংপুরের মিঠাপুকুর থেকে আসা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আসছি মূলত হিলি সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখার উদ্দেশ্যে। আগে কোনদিন এ এলাকা ঘুরে দেখিনি, যে কারণে আসা। হিলি সীমান্তে এসে বেশ ভালোই লাগছে। দুই দেশের মানুষের উপস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় একটা মিলনমেলার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে ‘ 

তিনি আরো বলেন, ‘সব মিলিয়ে ভালোই লাগছে। তবে সীমান্ত পেরিয়ে একটু যদি ওপারে যেতে দিত, ওদেশের মাটিতে পা রাখতে পারতাম তাহলে আরো ভালো লাগত।’ 

একই এলাকার আরেকজন দর্শনার্থী ইয়াকুব আলী বলেন, ‘হিলি সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখে খুব ভাল লেগেছে। বিজিবি যদি কাছাকাছি যাওয়ার অনুমতি দিত দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা আরো ভালভাবে দেখতে পেতাম।’

বগুড়া থেকে আসা দর্শনার্থী আব্দুর রশিদ বলেন, ‘আজকে ঈদের দিন তাই সব বন্ধুরা মিলে ঠিক করলাম যেহেতু হিলি সীমান্ত কোনদিন দেখা হয়নি, তাই বন্ধুরা মিলে মোটরসাইকেল নিয়ে এখানে এসেছি। ভালোই লাগছে বিশেষ করে খুব কাছাকাছি ভারত ও বাংলাদেশ। আবার সীমান্তের পাশ দিয়েই রেললাইন চলে গেছে যেদিক দিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। বেশ উপভোগ করতে পেরেছি।’

গাইবান্ধা থেকে আসা অপর দর্শনার্থী সজিব হোসেন বলেন, ‘শুনেছি ঈদের সময় সীমান্তে দেখা করার অনুমতি দেয় সে কারণেই আজকে এখানে এসেছি। আমাদের মত ওপারে থাকা আত্মীয়-স্বজন তারাও ভারতীয় সীমান্তে এসেছে। কিন্তু আমাদের রেললাইন অতিক্রম করতেই দিচ্ছে না বিজিবি, যে কারণে সীমান্তের এপাশে দাঁড়িয়ে থেকে হাত নেড়ে মনের ভাব প্রকাশ করছি। শুন্যরেখায় একত্রিত হওয়ার অনুমতি দেয়া হলে ভালো হত, অনেক দিন পর দেখা সাক্ষাৎ হত।’

ফুলবাড়ি থেকে উপজেলা আসা হেমায়েত উদ্দিন বলেন, আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছে ভারতে। এতদিন পাসপোর্টে মেয়ের বাড়ি যাতায়াত করেছি, আমিও গিয়েছি তেমনি মেয়ে জামাই এসেছিল। কিন্তু বর্তমানে ভিসা না থাকার কারণে যেতে পারছি না। তাই ফোনে কথা বলে যেহেতু ঈদের সময় কথা বলার সুযোগ দেয় তাই হিলি সীমান্তে এসেছিলাম মেয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। যেতে দিচ্ছে না তাই বাধ্য হয়ে এপাশে দাঁড়িয়ে থেকেই একে অপরকে দেখে ফিরে যেতে হচ্ছে।’

বিজিবির হিলি আইসিপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার অহিদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রতিবছরের ন্যায় এবারো ঈদকে ঘিরে সীমান্ত এলাকায় দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনুমতি না থাকায় সীমান্তের শুন্যরেখায় তাদের একত্রিত হতে দেয়া হচ্ছে না। সীমান্তের রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে যতটুকু দেখতে পারে সেটুকু করতে দেয়া হচ্ছে।’ 

হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আশরাফুল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোষ্ট দিয়ে পাসপোর্টে দুই দেশের মাঝে যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঈদুল ফিতরকে ঘিরে পাসপোর্টধারী যাত্রীর পাশাপাশি সীমান্তের জিরো পয়েন্ট এলাকায় দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে। দর্শনার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ যাদের কিনা ভারতে আত্মীয়-স্বজন রয়েছে, তাদের সঙ্গে দেখা করতে আসছে। কিছু দর্শনার্থী ঈদ উপলক্ষে সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখতে আসছে।’