গাজীপুর মহানগরের সারাবো এলাকার বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শ্রমিকরা ফের এক মাসের বকেয়া বেতন দাবিতে চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। একই সঙ্গে ডরিন এবং আইরিশ কারখানার শ্রমিকরাও মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সকাল থেকে শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবিতে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন। এতে মহাসড়কটি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অনেকে বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে চলাচল করছে।

জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শ্রমিকরা অক্টোবরে বকেয়া বেতন আদায়ের দাবিতে এ সড়ক অবরোধ করছে। শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেক্সিমকো পার্কে স্টাফসহ ৪১ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। প্রতি মাসে তাদের বেতনের পরিমাণ হয় ৮০ থেকে ৮২ কোটি টাকা। প্রতিমাসের ৭ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে তাদের বেতন দেয়া হতো। কিন্তু মালিকদের কেউ না থাকায় এখন বেতন ঠিকমতো পাচ্ছেন না। যার কারণে তারা গত বৃহস্পতিবার থেকে আন্দোলন শুরু করে। বেক্সিমকো কারখানার এ সমস্যার কারণে গতকাল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আরেকটি কারখানা ও এলাকাবাসীর মধ্যে। উত্তেজিত হয়ে একটি কারখানায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনার পর থেকে আশপাশের বেশ কিছু কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

কারখানার শ্রমিক ও শিল্প পুলিশ জানায়, গাজীপুর মহানগরের সারাবো এলাকায় বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গত কয়েক মাস ধরে শ্রমিকরা প্রতিমাসে আন্দোলন করে বেতন আদায় করছে। চলতি মাসেও আশপাশের প্রায় সব কারখানার বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হলেও, চলতি মাসের ১৬ তারিখ হয়ে গেলেও বেক্সিমকোর শ্রমিকরা বেতন পায়নি। যার কারণে বেতনের দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছেন।

ডরিন কারখানার শ্রমিক আহমদ সাত্তার বলেন, "আমাদের বেতন বকেয়া নেই। তবে আমাদের কারখানা বন্ধ রাখায় সড়ক অবরোধ করে রেখেছি। এছাড়াও বেক্সিমকো ও আইরিশ কারখানার শ্রমিকরাও সড়কে এসেছে।" কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, "প্রতিদিনের মতোই তারা আজও সড়ক অবরোধ করেছেন। তারা সারাদিন অবরোধ করে রেখে রাতে সড়ক ছেড়ে দেন। তারা বেতন না পেলে সড়ক থেকে যাবে না। কারখানা কর্তৃপক্ষও বেতন দিবেন এমন কোন আশ্বাস এখন পর্যন্ত দেননি।"