বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন চান, ততদিন তাকে ভারতে থাকার সুযোগ দেয়া উচিত বলে মনে করেন দেশটির সাবেক কূটনীতিক ও কংগ্রেস নেতা মণি শঙ্কর আইয়ার। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা সবাই একমত হব যে, শেখ হাসিনা আমাদের জন্য অনেক করেছেন। তাকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে, তাতে আমি খুশি। যত দিন তিনি থাকতে চান, সেটা যদি তার বাকি জীবনও হয়, তাকে সেই আতিথ্য আমাদের দেয়া উচিত।’ স্থানীয় সময় শনিবার ষোড়শ এপিজে সাহিত্য উৎসবে অংশ নিতে শনিবার কলকাতায় গিয়েছিলেন মণি শঙ্কর আইয়ার। সেখানে পিটিআইকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন কংগ্রেস নেতা মণি শঙ্কর আইয়ার। খবর ইকোনমিক টাইমস ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এখন দিল্লির একটি সেইফ হাউজে রাখা হয়েছে। তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে বাইরের কারো যোগাযোগ করার সুযোগ নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়েছে।
আন্দোলন দমন করতে গিয়ে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা হয়েছে। গণহত্যা ও গুমের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বিচারের মুখোমুখি করার জন্য শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর ভারতকে একটি কূটনৈতিক পত্র (নোট ভার্বাল) পাঠায় বাংলাদেশ সরকার। ভারত এর আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব দেয়নি। বরং হাসিনার ভারত থাকা দীর্ঘায়িত করার সুযোগ দিতে তাকে ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট দেয়া হয়েছে বলে খবর এসেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবির বিষয়ে আইয়ার বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমরা সবাই একমত হব যে—শেখ হাসিনা আমাদের জন্য অনেক ভালো কাজ করেছেন। আমি খুশি যে তাঁকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। যত দিন তিনি থাকতে চান, এমনকি তা সারা জীবন হলেও, আমাদের তাকে অতিথি হিসেবে রাখা উচিত।’
সংখ্যালঘু নির্যাতন সম্পর্কে মণি শঙ্কর আইয়ার পিটিআইকে বলেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলা হচ্ছে ‘ঠিক’, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা ঘটেছে তারা ‘শেখ হাসিনার সমর্থক’ হওয়ার কারণে। ওগুলো (হিন্দুদের ওপর হামলার যেসব খবর এসেছে) সত্য, তবে অতিরঞ্জিত। অনেকগুলো ঘটনাই মূলত রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে ঘটেছে।’










