ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকেই রাজধানী ঢাকা রূপ নিয়েছে এক অচেনা শহরে। মঙ্গলবার ঘরমুখো মানুষের ঢল নামায় গতকাল সকাল থেকে ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়ে। কর্মব্যস্ত এ নগরীর রাজপথগুলো এখন প্রায় জনমানবহীন, নেই চিরচেনা যানজট। মতিঝিল, কারওয়ান বাজার, মিরপুর, তেজগাঁও, রামপুরা, বাড্ডা, বনশ্রী, মালিবাগ, মগবাজার, ধানমন্ডি, বসুন্ধরা, যাত্রাবাড়ী এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

পরিবহনসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, নির্বাচনী কাজে যানবাহন রিকুইজিশনের কারণে বাসের সংখ্যা কম। তবে মেট্রোরেল স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করছে এবং যাত্রী পরিবহন করছে নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী।

ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এছাড়া ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত অন্যান্য পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস/প্রতিষ্ঠান/সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টানা চারদিনের ছুটি। গতকাল থেকে চারদিনের ছুটি শুরু হয়ে শেষ হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। অন্যদিকে নির্বাচন ও পূজার ছুটি মিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ছুটি থাকবে টানা পাঁচদিন। গতকাল সেই ছুটি শুরু হয়েছে, চলবে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

সরজমিনে রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, বাসগুলো যাত্রী নিয়ে গ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। তবে টার্মিনালগুলোয় যাত্রীদের ভিড় আগের দুদিনের তুলনায় গতকাল ছিল অনেকটা কম। যারা ভোট দেয়ার জন্য গ্রামে ফিরছিলেন, তারা শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতেই গতকাল ভোরেই যাত্রা করেন।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, অনেক বছর পর একটা ভোটের পরিবেশ তৈরি হয়েছে তাই নিজের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ভোট দেয়াটা বেশি জরুরি মনে করছি। পরিবারসহ সবাই মিলে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেব। আশা করছি শান্তিপূর্ণভাবে সবকিছু শেষ হবে।

ফাঁকা রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোয় গণপরিবহনের সংখ্যা খুবই কম। সিএনজি বা রিকশার সংখ্যাও সীমিত। অফিস-আদালত বন্ধ থাকায় ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল, দিলকুশা, কারওয়ান বাজার এলাকায় ছিল সুনসান নীরবতা। দোকানপাট অধিকাংশই বন্ধ, কেবল অতি প্রয়োজনীয় পণ্যের কিছু দোকান খোলা রয়েছে।

হাতিরঝিলে কথা হয় সিএনজিচালক আরাফাতের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঈদের সময়ও এমন ফাঁকা রাস্তাঘাট দেখা যায়নি। এবারের পরিবেশটা একটু আলাদা। মানুষ ভোট দিতে অনেক বেশি আগ্রহী। নতুন সরকার এলে দেশে আরো পরিবর্তন আসবে।

ভোটের দিন ঘনিয়ে আসায় রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মোড়ে মোড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।