ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলেও কাঠামোগত ও নীতিগত সীমাবদ্ধতা এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান)।

গতকাল রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে অধিকার, রূপসা, আর্শি ট্রাস্ট ও বি-স্ক্যানের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচনে প্রথমবারের মতো কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। নির্বাচনের দিন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকা, দিনাজপুর, ফরিদপুর ও মেহেরপুর জেলার ১১০টি ভোটকেন্দ্রে ১০০ জন প্রশিক্ষিত প্রতিবন্ধী পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়। পর্যবেক্ষণে ভোটগ্রহণের সূচনা, ভোটদান, প্রবেশগম্যতা ও ভোট গণনা প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত ছিল।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ৭৮ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে প্রতিবন্ধী ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দুই-তৃতীয়াংশ কেন্দ্রে তারা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে সক্ষম হন। তবে বহু কেন্দ্রে ভৌত অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা তাদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করেছে।

৪৪ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে প্রবেশপথে সিঁড়ি ছিল এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিকল্প র‍্যাম্পের ব্যবস্থা ছিল না। যেখানে র‍্যাম্প ছিল, সেগুলোর বেশিরভাগই মানসম্মত ঢাল অনুপাত অনুসরণ করে নির্মিত নয়। অর্ধেক ভোটকক্ষ নিচতলায় ছিল না, যা চলাচলে অতিরিক্ত বাধা তৈরি করেছে। ৭৪ শতাংশ কেন্দ্রে প্রতিবন্ধী ভোটারদের লাইনে অপেক্ষা করতে হয়নি এবং ৫১ শতাংশ কেন্দ্রে অগ্রাধিকার সুবিধা পাওয়া গেছে।

তথ্য প্রদর্শনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ৫৫ শতাংশ কেন্দ্রে তথ্য দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শিত হলেও ৪১ শতাংশ ক্ষেত্রে তা হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী বা কম উচ্চতার ব্যক্তিদের নাগালের বাইরে ছিল। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বা স্নায়ুবিক বিকাশজনিত প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য অনেক তথ্য পাঠযোগ্য ছিল না বা আংশিক পাঠযোগ্য ছিল।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভোটারদের ৯০ শতাংশ কোনো না কোনো সহায়তা পেয়েছেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষ করে স্নায়ুবিক বিকাশজনিত প্রতিবন্ধী ভোটারদের ক্ষেত্রে, স্বাধীনভাবে ভোট প্রয়োগ নিশ্চিত করা যায়নি এবং কর্মকর্তারা তাদের পক্ষে ব্যালটে সিল দিয়েছেন, যা গোপনীয়তা ও স্বাধীনতার প্রশ্ন উত্থাপন করে।

নির্বাচনের আগে বি-স্ক্যান নির্বাচনী আইন ও কাঠামোর একটি নীতিগত ঘাটতি বিশ্লেষণ সম্পন্ন করে এবং ২৮টি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশগম্যতা মূল্যায়ন পরিচালনা করে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পূর্ণ অধিকারধারী হিসেবে স্পষ্ট স্বীকৃতি, বাধ্যতামূলক প্রবেশগম্যতা মানদণ্ড এবং সহায়ক ভোটদানের প্রক্রিয়ায় একক মানের অভাব রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ব্যবস্থাও সীমিত।

বি-স্ক্যান মনে করে, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনগত সংস্কার, বাধ্যতামূলক প্রবেশগম্যতা মানদণ্ড এবং কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বি-স্ক্যান অনলাইন জরিপ ও ফোকাস গ্রুপ আলোচনার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভোটারদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করবে। পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে, যেখানে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি জোরদারে সুপারিশ প্রদান করা হবে।