সিলেট, মৌলভীবাজার ও মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে ১৭২ জনকে পুশ-ইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। গত শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত সিলেটের বিয়ানীবাজার, মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও মেহেরপুরের মুজিবনগর সীমান্ত দিয়ে তাদের পুশ-ইন করা হয়। অবশ্য দেশে প্রবেশের পর তাদের আটক করে বিজিবি।

অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশী যুবক আহত হয়েছেন। শনিবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার খাদলা সীমান্তের শ্যামনগর এলাকার ওপারে এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবির তথ্য বলছে, মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার শাহাবাজপুর সীমান্ত দিয়ে ৭৯ জন, পাল্লাতল দিয়ে ৪২ ও সিলেটের বিয়ানীবাজারের নয়াগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ৩২ জনকে পুশ-ইন করা হয়।

বিজিবির ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদি হাসান জানান, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছুদিন আগে সব সীমান্তের নিরাপত্তা ও টহল জোরদার করা হয়েছে। টহল চলাকালে শনিবার রাত আড়াইটার পর থেকে বিজিবি সদস্যরা দেখতে পান সীমান্তের জঙ্গল ও বিলপথ মাড়িয়ে অনেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন। দেশে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আটক করা হয়েছে।

এদিকে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর সীমান্ত দিয়ে ১৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে বিএসএফ। সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসা এসব নারী, পুরুষ ও শিশুদের নেয়া হয়েছে মুজিবনগর থানা পুলিশের হেফাজতে। গতকাল ভোরে সীমান্তে কাঁটাতারের গেট খুলে জোরপূর্বক বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন ফেরত আসা এসব নারী-পুরুষ।

মুজিবনগর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, আটক ১৯ জনই বাংলাদেশী বলে দাবি করেছেন। তবে তাদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় বাংলাদেশী কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। নীলফামারী ও কুড়িগ্রামসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা বলে তারা পুলিশের কাছে দাবি করেছেন। তাদের দেয়া তথ্য যাচাই করার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশী যুবক আহত হয়েছেন। শনিবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার খাদলা সীমান্তের শ্যামনগর এলাকার ওপারে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন কসবা খাদলা ক্যাম্প এলাকার শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা শের আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম (২৮) ও একই এলাকার আজাদ হোসেন (২৬)। তারা দুজনই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বিজিবি ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জিয়াউর রহমান জানান, এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হবে।