বৈঠকগুলোতে ভূমি অবক্ষয় ও খরা মোকাবেলা, জলবায়ু সহনশীলতা, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বাণিজ্য, শ্রম অভিবাসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় তথ্যটি জানিয়েছে।

বৈঠকে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূমি অবক্ষয়ের মতো আন্তঃসীমান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদার করা জরুরি। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সফল উদ্যোগ থেকেও বাংলাদেশ শিখতে আগ্রহী।’

মঙ্গোলিয়ার পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রীর সঙ্গে শুক্রবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতাকে আরো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। ভূমি পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু অভিযোজন, টেকসই প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সক্ষমতা উন্নয়নকে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) উপমহাপরিচালক (অপারেশনস) ইগোচি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে গত বুধবারের বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিবাসনের আন্তঃসম্পর্ক, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

ভারতের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রীর সঙ্গে আবদুল আউয়াল মিন্টু বৈঠক করেছেন গত সোমবার। এ বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।

জলবায়ু সহনশীল কৃষি, পানিসম্পদের দক্ষ ব্যবহার, খরা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষা, রিমোট সেন্সিং ও জিআইএস প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিও আলোচনায় স্থান পায় বৈঠকে। এছাড়া নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা উঠে আসে বৈঠকে।

পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ, ভূমিসাশ্রয়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি এবং পরিবেশসম্মত জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের বিষয় আলোচনা হয়।