অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামে শ্রম আইনে করা পাঁচ মামলার কার্যক্রম বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) খারিজ করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ আদেশ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ‘লিভ টু আপিল’ খারিজ করে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বিভাগ এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং অধ্যাপক ইউনূসের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান শুনানিতে ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান আজ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ে কোনো আইনি দুর্বলতা নেই। হাইকোর্টের সামনে আমাদের মূল নিবেদন ছিল যে গ্রামীন টেলিকমের পাঁচজন কর্মকর্তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তা আর বর্ধন করা হয়নি। কিন্তু তারা শ্রম আদালতে মামলা করে বলেন যে প্রকৃতপক্ষে চুক্তি বর্ধিত নয় বরং ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে উদ্ধত হয়েছিল। এ ধরনের অভিযোগে মামলা করতে হলে সংক্ষুব্ধ শ্রমিককে শ্রম অধিদপ্তর বরাবর নালিশ করতে হবে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে সত্যতা পেলে শ্রম অধিপদ্তর বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে। এক্ষেত্রে তারা শ্রম অধিদপ্তরের কাছে নালিশ করেছিল কিন্তু শ্রম অধিদপ্তর সেই নালিশ আমলে নেয়নি। তারা যে ট্রেড ইউনিয়ন করতে চেয়েছিল সে আবেদনপত্রই মঞ্জুর হয়নি, তাই আমলে নিই। এ পরিপ্রেক্ষিতে তাদের নিজেদের বাদী হয়ে মামলা করার কোনো সুযোগ ছিল না। এ নিবেদনই আমরা হাইকোর্টে করি। এটিতে সন্তুষ্ট হয়ে হাইকোর্ট রুল অ্যাবস্যুলেট করে। তারপর সরকারের পক্ষ থেকে সিপি ফাইল করলে সেটিও খারিজ করা হয়।’
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল খারিজ করে আপিল বিভাগের দেয়া পূর্ণাঙ্গ আদেশ প্রকাশিত হয়েছে। ফলে ড. ইউনূসসহ গ্রামীণ টেলিকমিউনিকেশনের তৎকালীন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো থাকল না।
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইনের পাঁচ মামলার কার্যক্রম বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল খারিজ করে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৪ অক্টোবর বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইনের এ পাঁচ মামলায় ও মানহানির এক মামলার কার্যক্রম বাতিল করে রায় দেন। ড. ইউনূসের নামে যখন শ্রম আদালতে পৃথক পাঁচটি মামলা হয়, তখন তিনি গ্রামীণ টেলিকমিউনিকেশন্সের চেয়ারম্যান ছিলেন। প্রস্তাবিত ট্রেড ইউনিয়ন ঘিরে কর্মীর চাকরিচ্যুতির অভিযোগ তুলে ২০১৯ সালে এসব মামলা করা হয়।










