সোলার প্যানেল ও ইনভার্টার আমদানিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দ্বিমুখী শর্ত জুড়ে দেয়ায় মাঠপর্যায়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং কার্যত শুল্ক বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৃহৎ মেগা প্রজেক্ট ও স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদকের (আইপিপি) নিয়মাবলি ছোট আকারের রুফটপ প্রজেক্টের ওপর চাপিয়ে দেয়ায় তালিকাভুক্তি ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীরা উৎসাহ হারাচ্ছেন এবং কাঙ্ক্ষিত ‘নেট মিটারিং’ সুবিধার সঠিক বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎ বা রুফটপ সোলার কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি জাতীয় অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হওয়া উচিত।

বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ হওয়া স্বত্ত্বেও বিগত দেড় দশকে অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হলেও কাঙ্ক্ষিত ‘জ্বালানি নিরাপত্তা’ অর্জন করা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববাজারে এলএনজি, কয়লা ও জ্বালানি তেলের দাম ক্রমাগত ওঠানামা করায় দেশের শিল্প খাত চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিই হতে পারে সবচেয়ে সঠিক ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

সরকারি গবেষণার তথ্যমতে, দেশের শিল্প-কারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও সরকারি-বেসরকারি ভবনের অব্যবহৃত ছাদ ব্যবহার করে ৫ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপন করা সম্ভব। এতে সরকার বছরে ৪-৫ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি সাশ্রয় করতে পারবে এবং প্রতি বছর প্রায় আড়াই থেকে সাড়ে তিন মিলিয়ন টন কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে। বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমরা বর্তমানে মাত্র ৪০০-৫০০ মেগাওয়াট রুফটপ সোলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছি।

প্রযুক্তিগতভাবে বাংলাদেশ এখন অনেকটাই স্বাবলম্বী। ওমেরা সোলার এ পর্যন্ত ১২০ মেগাওয়াটেরও বেশি রুফটপ সোলার স্থাপন করেছে। ২০২৭ সালের মধ্যে আরো ২০০ মেগাওয়াট সোলার বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আছে। দেশেই এখন আন্তর্জাতিক মানের রোবটিক সিস্টেম ও ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে আমরা নিজস্ব সোলার প্যানেল উৎপাদন করছি। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর এ প্যানেল এখন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রফতানিও হচ্ছে। তাই ইউটিলিটি স্কেল এবং রুফটপ—উভয় প্রজেক্টেই দেশীয় উৎপাদিত প্যানেল ব্যবহারে অগ্রাধিকার ও নীতিগত সুবিধা দেয়া দরকার। এতে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে স্থানীয় শিল্প বিকশিত হবে।

এছাড়া বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত শিল্পে গ্রিন প্রোডাকশন নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। অবিলম্বে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সঠিক নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে, উৎপাদন খরচ কমাবে এবং বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি শক্তিশালী স্বাবলম্বী রাষ্ট্রে পরিণত করবে।