তিনি জানান, সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও এডিআরের ইতিবাচক ব্যবহারের ফলে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে নির্দিষ্ট কয়েকটি আইনের আওতায় মামলা দায়েরের (ফাইলিং) হার ৬২ শতাংশের বেশি কমেছে।
গতকাল সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের (ডিবিএলএ) সঙ্গে ব্লাস্ট ও ব্র্যাকের পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস, অতিরিক্ত সচিব এসএম এরশাদুল আলম, আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন, ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্র্যাকের সেল্প কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লবসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আদালতগুলোয় প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি বড় বোঝা। এ মামলা জট কমানোর লক্ষ্যেই সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।’
সরকারের একার পক্ষে এ বিশাল কাজ শেষ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ব্লাস্ট ও ব্র্যাকের মতো অভিজ্ঞ এনজিওগুলোর দক্ষতা ও প্রান্তিক পর্যায়ে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে সরকার কাজে লাগাতে চায়। পাশাপাশি জাপান (জাইকা), জার্মানির জিআইজেড ও ইউএনডিপির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাও এডিআর জোরদারে সহযোগিতা করছে।’
মালয়েশিয়ার উদাহরণ টেনে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মালয়েশিয়া মধ্যস্থতার মাধ্যমে দুই বছরের মধ্যে ড্রাস্টিক্যালি (ব্যাপকভাবে) মামলা জট কমাতে সক্ষম হয়েছিল। আমরাও সে অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করছি।’
প্রি-ট্রায়াল বা মামলা দায়েরের আগের মধ্যস্থতার পাশাপাশি আদালতে বিচারাধীন (পোস্ট-ফাইলিং) মামলাগুলোয়ও বিচারকরা যেন এডিআর ব্যবহারে উৎসাহিত হন, সে আহ্বান জানান তিনি।
জমিজমাসংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা কমাতে সরকার আইন সংস্কারের পরিকল্পনা করছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের চিন্তা চলছে। হেবা বা উইলের ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায় পিতামাতা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেয়ার পর চরম অসহায় হয়ে পড়েন। তাই ‘গিফট’ বা দানপত্রে ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ বা ভোগাধিকার যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ফলে পিতামাতা বেঁচে থাকা পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগদখল নিজের কাছে রাখতে পারবেন এবং তাদের অনুমতি ছাড়া সন্তান সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবে না।’










