যথাযথ নীতিমালা না থাকা, তথ্য যাচাই কাঠামোর দুর্বলতা ও ডিজিটাল স্বাক্ষরতা কম থাকার কারণে বাংলাদেশের মানুষ প্রায়ই অনলাইন হয়রানির শিকার হন। ব্যবহারকারীদের প্রায় অর্ধেকেই কোনো না কোনোভাবে এ হয়রানির মুখোমুখি হন। যাদের মধ্যে নারীরাই আবার মূল লক্ষ্যবস্তু থাকে। এসব অনলাইন অপরাধ ভুক্তভোগীকে মানসিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত করে তোলে। এ অনলাইন হয়রানি কমাতে যথাযথ নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘অপ্রকাশিত সহিংসতা: ভুল তথ্য, বিভ্রান্তি এবং সাইবার বুলিং প্রতিরোধ’ শীর্ষক এ আলোচনা যৌথভাবে আয়োজন করে ঢাকা ট্রিবিউন ও ইউএসএআইডি। ‘লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ১৬ দিনের কর্মসূচি’র অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ইয়ুথ পলিসি ফোরামের সাবেক গ্রাসরুটস নেটওয়ার্ক লিড সিরাজুম মুনীরা রায়হান স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশজুড়ে উদ্বেগ, আত্মহত্যার প্রবণতা এবং আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি বাড়ছে। সকল অপরাধই নারীদের ওপর অসামঞ্জস্যভাবে প্রভাব ফেলে, সাইবার অপরাধও এর ব্যতিক্রম নয়।
তিনি আরো বলেন, পর্নোগ্রাফিক ছবি ও ভিডিও এবং সামাজিক মাধ্যমে মানহানি দেশের সবচেয়ে সাধারণ অনলাইন অপরাধের ধরন। আর এসব ঘটছে আমাদের যথাযথ তথ্য যাচাই কাঠামো না থাকার কারণে।
পরিস্থিতি পরিবর্তনে তরুণদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ইউএসএআইডির যোগাযোগ পরিচালক ট্রয় বেকম্যান বলেন, নারীদের কণ্ঠস্বর গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম সে কণ্ঠগুলো জোরালো করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও গবেষক ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, অনেক পরিবর্তন সত্ত্বেও বিদ্যমান সাইবার আইনে কিছু অস্পষ্ট শব্দ থেকে গেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব হয়রানির শিকার নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে শিশু। তাদের অনেকেই সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে সামনে আসতে চান না।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা বলেন, জনতার আন্দোলনের পরও নারীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। তাদের প্রতি অনেক অবমাননাকর মন্তব্য করা হচ্ছে। এসব বিষয় জানানোর পরও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তারা হয়তো এগুলোকে তুচ্ছ হিসেবে ভাবছে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষক মালিহা তাবাসসুম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নুসরাত জাহান প্রমুখ।










