জনবল সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এতে সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা। অনেককে আবার সেবা না নিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল বাড়েনি। এ কারণে চিকিৎসাসেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ১০ জন চিকিৎসকের স্থলে কর্মরত আছেন পাঁচজন। সার্জন ও অ্যানেস্থেশিয়া কনসালট্যান্ট না থাকায় হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার চালু করা সম্ভব হয়নি। স্বাস্থ্য সহকারীর ৩২টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন চারজন। কমিউনিটি উপসহকারী (স্যাকমো) ছয়টি পদের বিপরীতে আছেন চারজন। ১৫ জন নার্সের মধ্যে আছেন ১০ জন। পুরো হাসপাতাল চলছে একজন ওয়ার্ড বয় ও একজন আয়া দিয়ে অথচ পদ রয়েছে তিনটি করে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পাঁচটি পদের সবগুলোই শূন্য। নাইট গার্ডও নেই দীর্ঘদিন ধরে। ল্যাব টেকনিশিয়ানের তিনটি পদ থাকলেও সবগুলো পদই শূন্য।

সূত্র জানায়, টেকনোলজিস্ট না থাকায় রোগ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের পাঠানো হয় বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। দীর্ঘদিন থেকে এক্স-রে মেশিনটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। দাঁত ও চোখ পরীক্ষার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও চালানোর লোক নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জনবল সংকটে নষ্ট ও অকেজো হয়ে পড়ে আছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি। চিকিৎসক সংকটে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে রোগীদের।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসান মণ্ডলপাড়া গ্রামের ছলিবর, সুতিরপাড়া গ্রামের শহিদ মিস্ত্রি, হরিণধরা গ্রামের রুহুল আমিনসহ কয়েকজন জানান, এ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যায় না। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরে দৌড়াতে হয়। হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানির সংকটও তীব্র।

এ ব্যাপারে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোমেনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি রোগীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, হাসপাতালটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। এ বিষয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করি, শিগগিরই জনবলসহ সব সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেয়া হবে।