দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে। আজ বেলা ২টায় জাতীয় সংসদে শুরু হওয়া ভোটে নির্বাচিত হবেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।
কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে ভোটের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শুরুতে নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোটের নির্দেশিকা তুলে ধরেন।
এদিন প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ও জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভোট দেন। তারা ভোট দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ সংসদ সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রী ও প্রার্থীর সঙ্গেও করমর্দন করেন। প্রায় ৮ মিনিট সংসদ কক্ষে অবস্থানের পর তিনি সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।
দুপুর ২টা ১০ মিনিটে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী নিজের আসন থেকে উঠে পাশে বসা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে ভোট বাক্সের কাছে যান। ২টা ১১ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ব্যালট পেপার নিয়ে ভোট বাক্সের কাছে যান এবং নিজের ব্যালট পেপার বাক্সে ফেলেন।
এ সময় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এরপর ভোট বাক্সে ব্যালট পেপার ফেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে তিনি উপস্থিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে করমর্দন করেন। এ সময় বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের কাছে গিয়েও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।
দুপুর ২টা ১২ মিনিটে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান ভোট দেন। এরপর সংসদ সদস্যরা একে একে ভোট দিচ্ছেন।
রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন দুজন প্রার্থী। ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি দলটির মহাসচিব এবং সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-র চেয়ারম্যান অলি আহমদ। তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মূল দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। সংসদ অধিবেশন চলমান না থাকায় এই নির্বাচনের জন্য সংসদ সদস্যদের আলাদা বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করছেন।
এ নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন। তবে আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা না হওয়ায় মোট সংখ্যার তুলনায় একজন ভোটার কম আছেন।
অন্যান্য নির্বাচনের মতো গোপন ব্যালটে অনুষ্ঠিত হয় না রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর পাশে নিজের সম্পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন সংসদ সদস্যরা। তারা নিজ আসনে বসেই ভোট দেবেন।










