অনলাইনে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় প্রতিদিনই অনলাইনে ট্যাগিংয়ের মুখে পড়ছি। নাম সার্চ করলে দেখা যায়—সকালে বিএনপি, দুপুরে আওয়ামী লীগ এবং রাতে জামায়াতে ইসলামী ট্যাগ দেয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মহাখালীতে নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম আয়োজিত ‘নির্বাচনী সহিংসতা ও নারীর নিরাপত্তা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অনলাইন সহিংসতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, এ ধরনের ট্যাগিং থাকলেও এতে বিচলিত নই। দায়িত্ব নিয়েছি, কাজ করছি। আমার কাছে মনে হয় প্রথম কাজ হচ্ছে, সমস্যাকে চিহ্নিত করা, এরপর তার সমাধানে যাওয়া।

নির্বাচনকালীন অনলাইনে অপতথ্য ছড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয় এবং এর মোকাবেলার মেকানিজম অত্যন্ত জটিল। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি, তবে একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ছড়ানো কনটেন্টের প্রায় ৫০ শতাংশের উৎস শনাক্ত করা যায় না। বড় একটি অংশ দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হওয়ায় আইনের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি বাস্তব চ্যালেঞ্জও রয়েছে—একসঙ্গে বহু এজেন্ডা নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। জুলাইয়ের পর গণতন্ত্রে ফেরার প্রক্রিয়ায় সবদিকে সমান নজর দেয়া সম্ভব হচ্ছে না—এ দায়বদ্ধতা স্বীকার করছি।

তিনি জানান, স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ আসনসহ সারা দেশে মোট ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ৮১ জন। ৬০ জন রাজনৈতিক দলের এবং ২১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। এ সংখ্যা আরো বেশি হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ প্রসঙ্গে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে সাড়া দেয়া নারীর হার ৬ শতাংশ, আর দেশের ভেতরে এ হার ২৭ শতাংশ। সব মিলিয়ে নারী ভোটারের অংশগ্রহণ মাত্র ১৬ শতাংশ।

অনলাইনে সহিংসতা রোধে উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সার্ভিস প্রোভাইডিং প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের প্রশ্ন উঠছে। বর্তমানে মেটার সঙ্গে বৈঠক চলছে এবং টিকটকের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করা হয়েছে।

প্রথম সেশনে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশনা ইমাম এবং টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক সাবহানাজ রশিদ দিয়া।