অনলাইনে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনার হিসেবে প্রতিদিন অনলাইনে হয়রানির শিকার হচ্ছি। বিশ্বাস করুন! আমার নাম সার্চ করুন দেখবেন সকাল বেলা বিএনপি, দুপুরে আওয়ামী লীগ ও রাতে জামায়াতে ইসলামী ট্যাগ দেয়া হচ্ছে।’

গতকাল রাজধানীর মহাখালীতে নারীর রাজনৈতিক ফোরাম আয়োজিত এক প্যানেল আলোচনায় অনলাইন সহিংসতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব বলেন। ‘নির্বাচনী সহিংসতা ও নারীর নিরাপত্তা’ শীর্ষক সেশনে তিনি প্যানেল আলোচক ছিলেন।

এ সময় নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ট্যাগিং দেয়া হচ্ছে। তবে আমরা এসব নিয়ে বিচলিত না। আপনি দায়িত্ব নিয়েছেন, কাজ করছেন। আমার কাছে মনে হয় প্রথম কাজ হচ্ছে সমস্যাকে চিহ্নিত করা, এরপর সেটির সমাধান করা।’

নির্বাচনকালীন অনলাইনে অপতথ্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন এটি বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয় এবং মেকানিজমটা খুবই জটিল। আমরা এখানে কাজ করছি। তবে এখানে চ্যালেঞ্জ আছে। যেসব কনটেন্ট ছড়ানো হয় তার ৫০ শতাংশের মতো সোর্স ট্রেসেবল না। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বড় অংশ এসব কর্মকাণ্ড দেশের বাইরে থেকে পরিচালনা করছে। ফলে তাদের আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না। তৃতীয়ত, আমরা প্র্যাক্টিক্যাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছি। অসংখ্য এজেন্ডা আমাদের সামনে। আপনি কতগুলোকে সমাধান করবেন? জুলাইয়ের পর গণতন্ত্রে ফিরছি। সেজন্য সবদিকে হয়তো যথাযথ নজর দিতে পারছি না, এই দায়বদ্ধতা স্বীকার করছি।’

নির্বাচনে নারীর উপস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ আসনসহ সারা দেশে ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে মাত্র ৮১ জন নারী। ৬০ রাজনৈতিক দলের ২১ জন স্বতন্ত্র। আমার তো মনে হয় এ সংখ্যাটা অনেক ভালো হওয়া উচিত ছিল। আমরা পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণ করছি। যেখানে প্রবাসীদের মধ্যে সাড়া দেয়ার ৬ শতাংশ নারী। দেশের মধ্যে এই হার ২৭ শতাংশ। সব মিলিয়ে মাত্র ১৬ শতাংশ নারী।’

অনলাইনে নানা ধরনের সহিংসতা বন্ধে উদ্যোগের বিষয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘প্রশ্ন উঠছে সার্ভিস প্রোভাইডিং প্লাটফর্মগুলোর সঙ্গে মিটিং করছি কিনা। এ মুহূর্তে মেটার সঙ্গে আমাদের মিটিং চলছে। আমরা টিকটকের সঙ্গে এমওইউ করেছি।’

আলোচনার প্রথম সেশনে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় আলোচক ছিলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশনা ইমাম ও টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক সাবহানাজ রশিদ দিয়া। পরে দলীয় ইশতাহারে নারীর অধিকার ও বাস্তবায়ন আরেকটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়।