চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের পারকৃষ্ণপুর গ্রামে ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ওই গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে ‘বখাটে’ মোমিনুল ইসলামকে (২০) আটক করেছে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুটি পারকৃষ্ণপুর গ্রামের এক কাঠুরের (সঙ্গত কারণে নাম বলা হচ্ছে না) মেয়ে এবং একই উপজেলার ছয়ঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মৃতদেহ ও আলামত উদ্ধার করেছে।

এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সুকুমার বিশ্বাস জানান, অভাবের সংসারে ভোরের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ওই শিশুর বাবা চলে যান কাঠ কাটতে ও তার মা যান অন্যের জমিতে তুলা ও মরিচ তুলতে। আর একটু সকাল হলেই প্রতিবন্ধী ভাইকে বাড়িতে রেখে সে যায় স্কুলে। প্রতিদিনের মতো গত শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) পারকৃষ্ণপুর গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ পাড়ার কাঠুরে ও তার মেয়ে এদিন দুপুরে বাড়িতে ভাত খেতে আসে। তবে মেয়েটির মা প্রতিদিনের মতো সেদিন বাড়িতে খেতে আসেননি। মেয়েটি তার মাকে না পেয়ে খুঁজতে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেনি।

নিখোঁজের বিষয়টি জানাজানি হলে তার নিজ গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে মাইকযোগে প্রচার চালানো হয়। সন্ধ্যার আগে থেকেই ইউপি সদস্য খায়রুল বাসারের নেতৃত্বে ৮-৯টি দল গঠন করে গ্রামের বিভিন্ন স্থান ও মাঠে তাকে খুঁজতে থাকেন স্থানীয়রা। রাত ৯টার দিকে একই গ্রামের আয়ুব আলীর শিম ক্ষেতে শিশুটির মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। এ খবর এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শত শত নারী-পুরুষ মেয়েটির মৃতদেহ দেখতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আলামত হিসাবে শ্যাম্পুর একটি খালি প্যাকেট উদ্ধার করে। তারই সূত্র ধরে পুলিশ স্থানীয় এক মুদিদোকানীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে মোমিনুল ইসলামকে আটক করে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মোমিনুল বখাটে ছেলে।

আজ রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টর দিকে নিহত স্কুল ছাত্রীর মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।