নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন সরকারি সেবা ও তথ্য ব্যবস্থাকে একটি সংযুক্ত ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এ ব্যবস্থায় প্রত্যেক নাগরিকের একটি আইডি থাকবে এবং সেই আইডিকে ওয়ালেট ও কর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে ধারাবাহিক ও সংযুক্ত ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিরাপদে অনুমোদিত তথ্য বিনিময়, অভিন্ন অবকাঠামোর পুনর্ব্যবহার এবং একই ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা বারবার তৈরি না করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
গতকাল রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ‘ই-ফেক্টিভ ই-গভর্ন্যান্স: অ্যাকসেলারেটিং ই-গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ডিজিটাল পাবলিক সার্ভিসেস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইটিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর আইটি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ‘গত ছয় মাসে সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের মডেল এবং ওপেন সোর্স প্লাটফর্ম পর্যালোচনা করে এস্তোনিয়ার এক্স-রোডকে সবচেয়ে শক্তিশালী, নিরাপদ ও ব্যয়সাশ্রয়ী সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক নাগরিকের একটি আইডি থাকবে এবং সেই আইডিকে ওয়ালেট ও কর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে একটি ধারাবাহিক ও সংযুক্ত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘নাগরিকরা সরকারকে আলাদা আলাদা মন্ত্রণালয় হিসেবে দেখেন না; তারা সরকারকে একটি সামগ্রিক ব্যবস্থা হিসেবে দেখেন। তাই সরকারি ব্যবস্থাগুলোকে ক্রমেই একটি সংযুক্ত ইকোসিস্টেম হিসেবে পরিচালিত করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘এটি শুধু নতুন প্রযুক্তি চালু করা বা পৃথক সরকারি সেবা ডিজিটাল করার বিষয় নয়। এর মূল প্রশ্ন হলো সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আরো সমন্বিত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলকভাবে কাজ করতে পারছে কিনা।’
অন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশে প্রতিনিধি দলের হেড অব ইউনিট ও হেড অব কো-অপারেশন মাইকেল ক্রেইজা, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ও ই-ফেক্টিভ ই-গভর্ন্যান্স প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নাহিদ সুলতানা মল্লিক, ই-গভর্ন্যান্স একাডেমি ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের সদস্য ইনগ্রিড টুনেকুর্গ, ইজিএর হেড অব ডিজিটাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড সলিউশনস কম্পিটেন্স সেন্টার আরভো অট, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব ফারাহ শাম্মী।
জাতীয় ডেটা গভর্ন্যান্স, ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন এবং ন্যাশনাল রেসপনসিবল ডেটা এক্সচেঞ্জ (এনআরডিইএক্স) প্লাটফর্ম বিষয়ে এ সেমিনারের আয়োজন করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। ই-গভর্ন্যান্স একাডেমির (ইজিএ) সহযোগিতায় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্লোবাল গেটওয়ে ইনিশিয়েটিভের অর্থায়নে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।










