যশোরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রথমবারের মতো পাঁচ শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ইএসএল (ইংলিশ স্পোকেন ল্যাঙ্গুয়েজ) সমাবর্তন। গতকাল বিকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত প্রতীকী এ সমাবর্তনে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. মশিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘সমাবর্তনের মতো এ আয়োজন শিশুমনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এর মধ্য দিয়ে ওরা ভবিষ্যৎ সাফল্যের স্বপ্ন দেখতে পারবে।’
আইডিয়া স্পোকেন—দ্য গেইম মেথডের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ছয় মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধানে জেলার ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক হাজার শিক্ষার্থী বিনামূল্যে খেলতে খেলতে ইংরেজি শিখেছি। তার সমাপনী হিসেবে এই প্রতীকী সমাবর্তনের আয়োজন করা হয়েছে।
শিল্পকলা একাডেমি থেকে আনন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুরু হয় সমাবর্তন উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা কনভোকেশন হ্যাট মাথায় শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড মো. আহসান হাবীব, যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ যশোরের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মর্জিনা আক্তার প্রমুখ।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘বিতর্কে অংশ নেয়া সবাই নিজেকে বদলে ফেলেছে। এর কারণ হলো যারা এতে অংশ নিয়েছে তারা সবাই স্মার্ট হতে চায়। তবে বাঙালি জাতির মধ্যে সবচেয়ে স্মার্ট ছিলেন তিনি, যিনি ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতার বীজ বপন করেছেন। তিনি হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার সঠিক চিন্তাধারার কারণে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন দেশ।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে চান। তার অন্যতম একটি ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন স্মার্ট সিটিজেন। তোমরা স্মার্ট সিটিজেন হয়ে সেই স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে ভূমিকা রাখবে।’
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ছয় মাসের এই কোর্সে বিদ্যালয়ের কার্যক্রমের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে শিক্ষার্থীরা যেভাবে ইংরেজি শিখেছে তা অসাধারণ। বাংলায় যারা কথা বলতে ভয় পেত তারা এখন ইংরেজিতে অনর্গল বিতর্ক, উপস্থাপনা করে।’
সমাবর্তন বক্তা সহকারী অধ্যাপক হামিদুল হক শাহীন বলেন, ‘ভাষা একটি মাধ্যম, নিজেকে প্রকাশ করার, নিজের সমস্যা সমাধান করার।’ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আইডিয়া স্পোকেন দ্য গেইম মেথডের কো-অর্ডিনেটর নাবিলা সুলতানা ও মল্লিকা আফরোজ।










