গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তোফাজ্জল ইসলাম বলেছেন, আমাদের এ অঞ্চলের কৃষির ইতিহাস প্রায় ১০হাজার বছরের। আমরা অগ্রসরমান প্রযুক্তি ব্যবহার করেছি শুধু খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর কাজে। মাটির গুণাগুণকে আমরা এযাবৎকাল উপেক্ষা করে গেছি। এখনো সারা বিশ্বে প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ ক্ষুধা পেটে ঘুমাতে যায়। কৃষি একটি সমন্বিত বিষয় হলেও আমরা শুধু শস্যনীতির ক্ষেত্রে কাজ করে গেছি। এখানে পশুপালন,মৎস্য ও অন্যান্য বিষয়ে মনোযোগ দেয়া হয়নি।

আজ সোমবার (৫ মে) বণিক বার্তা আয়োজিত রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত 'কৃষি, নিরাপত্তা ও প্রাণ-প্রকৃতি সম্মেলনের' দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘কৃষি উৎপাদন ও প্রাণ-প্রকৃতি’ বিষয়ে প্যানেল আলোচক হিসেবে এসব কথা বলেন ড. তোফাজ্জল ইসলাম।

তিনি বলেন, ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের ইতিহাস আমাদের প্রাচীন ইতিহাস। সেজন্য আমাদের দেশের নীতিনির্ধারকরা সব সময় খাদ্য নিরাপত্তা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিয়ে গেছে। খাদ্য নিরাপত্তায় অধিক মনোযোগ দিতে গিয়ে আমরা আমাদের প্রাণ প্রকৃতি ধ্বংস করেছি মাত্র। যার কুফল আমরা এখন ভোগ করছি। বাংলাদেশের কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত যেসব পদ্ধতি ছিল সেগুলোকে উপেক্ষা করা হয়েছে খাদ্য উৎপাদনের জন্য। আমাদের দেশে যে পরিমাণ কৃষি জমি রয়েছে তার মাত্র ৮০ শতাংশ আমরা ব্যবহার করতে পারছি।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ একটি জলবায়ু অভিঘাত সম্পন্ন দেশ। প্রায়ই আমাদের দেশ নানা রকম প্রাকৃতিক অভিঘাতে ধ্বংস হয়। প্রায় সময়ে দেশের প্রান্তিক মানুষকে যুদ্ধ করে প্রাকৃতিক অভিঘাত মোকাবেলা করতে হয়। কৃষিকে সমৃদ্ধ করতে প্রায়ই মাটির জৈব উপাদানগুলোকে ধ্বংস করছি। নিয়মিত উপেক্ষা করে গেছি মাটির অণুজীবগুলো রক্ষা করতে। বর্তমানে মাটির ডিএনএ পরীক্ষা হচ্ছে বিভিন্ন দেশে, এগুলোতে কী কী উপাদান রয়েছে তা জানার জন্য। মাটির বৈচিত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রযুক্তি ও সার দিলেও অণুজীবগুলো ধ্বংসের ফলে ফলন বাড়ছে না। অণুজীবগুলো এখন নিজে নিজেই আয়ন তৈরি করতে পারছে না। এর সঙ্গে মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে। সঙ্গে ধ্বংস হচ্ছে প্রাণ-প্রকৃতি। আমাদের এখন প্রয়োজন মাটির ম্যাপিং করা। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারব মাটিতে কী পরিমাণ জৈব উপাদান রয়েছে, কতটা অণুজীব রয়েছে এখানে, কী ব্যবস্থা নিলে মাটির স্বাভাবিক অণুজীবগুলো বৃদ্ধি ঘটবে, কীভাবে মাটির স্বাভাবিক গুণাগুণ রক্ষা করা যায়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আজকাল এগুলো সন্ধান করা অনেক সহজ হয়ে গেছে। আমাদের এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। মাটিকে তার স্বাস্থ্যের গুণাগুণ ফিরিয়ে দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, মাছের ক্ষেত্রেও আমাদের ইলিশ ও কোরাল মাছের কৃত্রিম কালচার বাড়াতে হবে। কারণ এসব মাছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি। জাতীয় প্রকল্পের মাধ্যমে এসব কিছু নির্দিষ্ট সম্পদকে রক্ষা করতে হবে। এছাড়া বারোমাসি কাঁঠালের জিন প্রক্রিয়া উন্নতকরণ করলে আমরা ১২ মাস কাঠাল খাওয়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তায় অবদান রাখতে পারব। মাটির স্বাস্থ্যগত দিক উন্নতকরণে গবেষণায় অর্থ বরাদ্দ বাড়াতে হবে। ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা বাড়াতে ও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জসহ প্রাকৃতিক অভিঘাত মোকাবেলায় জলবায়ু সহনশীল উৎপাদন বাড়াতে হবে।