কভিড-১৯ মহামারী দেখা দিলে গত বছর ২৪ মার্চের পর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু হয় বেশ কয়েকটি গন্তব্যের ফ্লাইট। যদিও ভিসা জটিলতা ও বিভিন্ন দেশের নানা বিধিনিষেধের কারণে আন্তর্জাতিক গন্তব্যগুলো থেকে আগের মতো আয় করতে পারছে না এয়ারলাইনসটি। এ অবস্থায় সংস্থাটি আয়ের বিকল্প উৎস তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। আয়ের উৎস খোঁজায় জোর দিয়েছে সংস্থাটি। যার ধারাবাহিকতায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে বিমানের যানবাহন বিভাগের মেরামত কারখানা ও প্রিন্টিং বিভাগকে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের যানবাহন বিভাগ থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সেবা কার্যক্রম চালুর বিষয়টি উল্লেখ করে গত ২৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সরকারি দপ্তরগুলোতে চিঠি পাঠায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। চিঠিতে বলা হয়, বিমানের যানবাহন বিভাগের মেরামত কারখানা প্রশিক্ষিত জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে উন্নত সেবা দিচ্ছে। বিমানের নিজস্ব ইউনিটে ব্যবহূত যানবাহন মেরামতের পরও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার যানবাহনের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক্ষেত্রে যেকোনো সরকারি দপ্তর জিটুজি পদ্ধতিতে এ সেবা গ্রহণের সুযোগ নিতে পারে।

এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি যানবাহন বিভাগ থেকে বাণিজ্যিক সেবা দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো মোকাব্বির হোসেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০ জানুয়ারি থেকে বিমানের নিজস্ব গাড়ির পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার যানবাহনের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা দেয়া হবে। চিঠিতে গাড়ি মেরামতের বিভিন্ন সেবার বিপরীতে একটি মূল্যতালিকাও সংযুক্ত করা হয়।

মেরামত কারখানার পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিভাগকেও (বিমান প্রেস) বাণিজ্যিক সেবা কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে। বিমান প্রেসে থাকা প্রশিক্ষিত জনবল ও জার্মানির হাইডেলবার্গ কোম্পানির প্রিন্টিং মেশিন, পোলার পেপার কাটিং মেশিন, প্লেট মেকিং মেশিন ও ডাই কাটিং মেশিন রয়েছে। এছাড়া গ্লু, ম্যাট ও স্পট লেমিনেশন মেশিন; ডিজিটাল, প্যানা, পিভিসি প্রিন্টিং মেশিন রয়েছে বিমানের ফার্মগেটে অবস্থিত প্রেসে। সোমবার প্রেসের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের উদ্বোধনও করা হয়েছে। যার ফলে বিমান প্রেস থেকে এখন যেকোনো গ্রাহক সাশ্রয়ী মূল্যে বাণিজ্যিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

গতকাল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিভাগের (বিমান প্রেস) বাণিজ্যিক সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, সারা বিশ্বে কভিড-১৯ অতিমারীর কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এভিয়েশন ও পর্যটন শিল্প। বিশ্বের সব এয়ারলাইনস কোম্পানি বর্তমানে একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিমানও এর ব্যতিক্রম নয়। আমরা বিমানের অপারেশনাল ব্যয় হ্রাস করার পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বিমানের আয় বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। যার মাধ্যমে বিমানের সব সম্পদের সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিমান প্রেসে সম্প্রতি নতুন ও আধুনিক বিভিন্ন ধরনের প্রিন্টিং মেশিন সংযোজন করা হয়েছে। বিমান প্রেস উন্নত ও মানসম্মত প্রকাশনা ও মুদ্রণ সামগ্রী তৈরিতে সক্ষমতা অর্জন করার ফলে প্রকাশনার সঙ্গে জড়িত সরকারি ও বেসরকারি সব গ্রাহক সহজে ও সাশ্রয়ী মূল্যে এখানে সর্বোত্তম সেবা পাবেন।

প্রসঙ্গত, দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়ায় গত ২৪ মার্চ সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। পরবর্তী সময়ে ১ জুন থেকে সীমিত পরিসরে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয় সংস্থাটি। যদিও বিভিন্ন দেশের বিধিনিষেধের কারণে যাত্রী কম থাকায় আগের তুলনায় খুবই সীমিতসংখ্যক ফ্লাইট চালু করেছে বিমান।