রোগী দেখতে যাওয়ার পথে নাটোরে ট্রাকের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের আট যাত্রী নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজন একই পরিবারের সদস্য। সবাই রোগী দেখতে সিরাজগঞ্জ যাচ্ছিলেন। গতকাল সকাল ১০টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার তরমুজ পাম্প এলাকায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া রাজধানীর মুগদা, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, নেত্রকোনা, দিনাজপুর ও হবিগঞ্জে আরো ছয়জনের প্রাণহানি হয়েছে। গতকাল ও আগের দিন রাতে এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে—
নাটোর: কুষ্টিয়ার জাহিদুল ইসলামের দুই ছেলে প্রবাসে থাকেন। এর মধ্যে এক ছেলে সোহানের শ্বশুরবাড়ি সিরাজগঞ্জে। দুইদিন আগে তার স্ত্রীর নিশি খাতুনের অপারেশন হয়েছে। তিনি বাবার বাড়িতেই রয়েছেন। অসুস্থ পুত্রবধূকে দেখতে যাচ্ছিলেন জাহিদুলের পরিবার। সঙ্গে আরো কয়েকজন ছিলেন। গতকাল মাইক্রোবাসে তারা বাড়ি থেকে রওনা দেন। মাইক্রোবাসটি নাটোরের বড়াইগ্রামে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ছয়জন। দুজনের অবস্থা আশঙ্কজনক হলে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (৫৫), তার স্ত্রী সেলিনা খাতুন (৫০), ছোট বোন রৌশনারা আক্তার ইতি (৪৮), চাচাতো বোন আনোয়ারা খাতুন (৫৫), চাচাতো ভাবি আনোয়ারা খাতুন আনু (৫০), শাশুড়ি আনজুমান (৭৫) ও শ্যালিকা সীমা (৩৫)। এছাড়া নিহত মাইক্রোবাসচালক সাহাবুদ্দিন (৪২)। তিনিও একই গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে।
নিহত জাহিদুল ইসলামের চাচাতো ভাই মানজারুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘অসুস্থ পুত্রবধূকে দেখতে সিরাজগঞ্জে যাচ্ছিলেন জাহিদুল ইসলামের পরিবারের সাতজন। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়ে তারা রওনা হন। পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারের সাতজন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। তাদের পরিবারে আর কেউ থাকল না। নিহতদের মধ্যে জাহিদুলের স্ত্রী, বোন, শাশুড়ি ও শ্যালিকাও রয়েছেন।’
ঢাকা: রাজধানীর মুগদায় দুই বাসের মাঝখানে চাপা পড়ে আতিকুর রহমান (৪৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল সকাল ৮টার দিকে মুগদা হাসপাতালের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আতিকুর ঢাকা রেলওয়ে বিভাগের মেকানিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আতিকুরের সহকর্মী ওবায়দুল হক বলেন, আতিকুরের বাসা মুগদা এলাকায়। সকাল ৮টার দিকে বাসা থেকে কর্মস্থলে আসার পথে মুগদা হাসপাতালের সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় দুই বাসের মাঝখানে চাপা পড়ে তিনি আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আতিকুর মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর ইসলামপুর গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে। তিনি মুগদা এলাকায় থাকতেন। তার পরিবার গ্রামের বাড়িতে থাকে।
চট্টগ্রাম: মিরসরাইয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২ ঘণ্টার ব্যবধানে পাঁচটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। একটি দুর্ঘটনায় এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। গতকাল ভোর ৪টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। নিহত ওই চালকের নাম জামাল উদ্দিন। তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানার বাগানবাজার ইউনিয়নের সিকদারখীল গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে।
জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোরে বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে সড়ক পিচ্ছিল ছিল। এতে উপজেলার জোরারগঞ্জের সোনাপাহাড় এলাকায় তিনটি দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনার প্রথমটি হয় ভোর ৪টায়। এ সময় একটি ট্রাক সড়কের মাঝখানে উল্টে যায়। এতে চালক ও তার সহকারী আহত হন। কিছুক্ষণ পর ওই এলাকা থেকে ৫০ মিটার দক্ষিণে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে পণ্যবাহী একটি ট্রাকের পেছনে সিমেন্টবাহী একটি ট্রাকের ধাক্কা লাগে। এ সময় সিমেন্টবাহী ট্রাকচালক মো. জামাল উদ্দিন নিহত হন। একই এলাকায় মাইক্রোবাসের পেছনে পণ্যবাহী ট্রাকের ধাক্কা লাগে। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়, তবে এতে কেউ গুরুতর আহত হননি। অন্যদিকে ভোর ৫টায় মিরসরাই উপজেলা সদর এলাকায় আরো দুটি দুর্ঘটনা ঘটে। এতেও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক বোরহান উদ্দিন জানান, ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর: পিকআপচাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো একজন। গতকাল দুপুরে সরকারি মহিলা কলেজের নতুন ক্যাম্পাসের কাছে লক্ষ্মীপুর-মজুচৌধুরীর হাট সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাকিব হোসেন (২৮) পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের অদু মিয়ার ছেলে। আহত তসলিম ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আতর আলীর ছেলে। তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সদর মডেল থানার ওসি আব্দুল মোন্নাফ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন।
নেত্রকোনা: জেলার কলমাকান্দায় পিকআপচাপায় অরবুলা আক্তার (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুজন। গতকাল দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কলমাকান্দা থানার ওসি মোহাম্মদ লুৎফর রহমান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপসহ চালক রাব্বীকে আটক করা হয়েছে।
দিনাজপুর: কাভার্ড ভ্যানচাপায় দিনাজপুরে সোহেল রানা (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো দুজন। গতকাল বেলা সোয়া ৩টার দিকে দিনাজপুর-বোচাগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের মঙ্গলপুর ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সোহেল রানা বিরল উপজেলার শহরগ্রাম ইউনিয়নের কাঠিহারী গ্রামের বাবুল হকের ছেলে।
হবিগঞ্জ: জেলার নবীগঞ্জে পিকআপ ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অটোরিকশার আরো চার যাত্রী। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে নবীগঞ্জ-আউশকান্দি সড়কের ডেবনারপুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নূর আলী (৫৫) সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বরকতপুর গ্রামের মৃত কবির মিয়ার ছেলে। নবীগঞ্জ থানার ওসি শেখ মো. কামরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।










