নীতিমালার ধারাবাহিকতা, সমতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে এবং প্রশাসনের সদিচ্ছা ও কার্যকর উদ্যোগ থাকলে দেশে বিনিয়োগের ঘাটতি থাকবে না বলে মনে করেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তারা। তারা বলেন, বিদেশী বিনিয়োগের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে হাইটেক পার্কগুলোয় তাৎক্ষণিকভাবে কাজ শুরুর সুবিধা নিশ্চিত করা এবং লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের উইন্ডি টাউন হলে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ককে বৈশ্বিক বিনিয়োগের প্রবেশদ্বার শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা উঠে আসে। চার দিনব্যাপী ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ ২০২৬ আয়োজনের দ্বিতীয় দিনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন।
সেমিনারে বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল ফ্যামিলির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, স্মার্ট টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিসিএস সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী এবং ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. লিয়াত আলী।
মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম তুলে ধরেন সংস্থাটির সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল হাসান। তিনি জানান, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক ইতোমধ্যে হাইটেক পার্কে এক একর জায়গা নিয়েছে।
আলোচনায় ড. মো. সবুর খান বলেন, প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সহায়ক পরিবেশ থাকলে দেশীয় বিনিয়োগ দিয়েই হাইটেক পার্কগুলো এগিয়ে নেয়া সম্ভব। তিনি জানান, নীতিমালা বড় বাধা নয়। মূল সমস্যা হচ্ছে প্রশাসনিক সদিচ্ছা এবং দ্রুত ও সহজ অনুমোদন প্রক্রিয়ার অভাব। তিনি কর্মকর্তাদের সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন এবং অনুমোদন জটিলতায় একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ থেমে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা বলেন।
মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, নীতিমালার ধারাবাহিকতা না থাকলে এবং মূল্য সংযোজনের ক্ষেত্রে অযথা বাধা তৈরি হলে উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন। তিনি জানান, অতীতে ব্যবসায়ীদের আচরণে জটিলতা ছিল। বর্তমানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড হাইটেক পার্ককে আলাদা দৃষ্টিতে দেখছে। এ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।
শাওমি বাংলাদেশের জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, হাইটেক পার্কগুলোকে পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়নের পথে এগোতে হবে। সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে কাজ শুরু করার সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য কাঁচামাল, দক্ষ জনবলসহ প্রয়োজনীয় সব সহায়ক পরিবেশ হাইটেক পার্কে আছে কি না, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
আলোচনায় অংশ নেয়া উদ্যোক্তারা বলেন, নীতিমালার ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক সহযোগিতা এবং বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত থাকলেই দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ আরো বাড়বে।









