সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বাঁকড়া এলাকায় একটি সেতু ভেঙে পড়েছে প্রায় এক মাস হতে চলল। কিন্তু অদ্যাবধি ভেঙে পড়া সেতুটি অপসারণ বা জনসাধারণের চলাচলের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। এতে তিন উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের অন্তত ৩৫ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
অন্যদিকে সেতুটি সরকারের কোন অধিদপ্তর অপসারণ বা পুনর্নির্মাণ করবে, তা এখনো পর্যন্ত স্থির করতে না পারায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে সংস্কারকাজে। সংশ্লিষ্টদের কথা অনুযায়ী আগামী আট-নয় মাসেও সম্ভব হবে না নতুন সেতুটি নির্মাণের।
বাঁকড়া গ্রামের আলমগীর হোসেন, গোবিন্দ মণ্ডল ও নজরুল ইসলাম জানান, তারা সবাই ঘের ব্যবসায়ী। প্রতিদিন ঘেরের মাছ নিয়ে আশাশুনি ও সাতক্ষীরায় যেতে হয়। কিন্তু বাঁকড়ার সেতুটি ভেঙে পড়ার পর থেকে তাদের মাছ পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে মাছ পরিবহন করতে দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বলে জানান তারা। ভেঙে পড়া সেতুটি ঘের-অধ্যুষিত এলাকা হওয়ার কারণে হাজার হাজার মাছচাষী ও ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় শোভনালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুবকর সিদ্দিক জানান, প্রায় এক মাস হতে চলেছে বাঁকড়ার মরিচ্চাপ নদীর ওপর নির্মিত পাকা সেতুটি ভেঙে পড়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেটি অপসারণ বা জনসাধারণের চলাচলের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে করে আশাশুনি উপজেলার শোভনালী, বুধহাটা, আশাশুনি সদর ইউনিয়ন, কালীগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল ইউনিয়ন এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ও ধুলিহর ইউনিয়নের কমপক্ষে ৩৫টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। তিনি দ্রুত ভেঙে পড়া সেতুটি অপসারণ ও নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত জনসাধারণের চলাচলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।
আশাশুনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহাগ হোসেন জানান, বাঁকড়া এলাকায় মরিচ্চাপ নদীর ওপর সেতুটি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি যখন নির্মাণ করে সে সময় নদীর গভীরতা কম ছিল। কিন্তু বর্তমান পানি উন্নয়ন বোর্ড মরিচ্চাপ নদী অনেক গভীর করে খনন করায় তলার মাটি সরে গিয়ে সেতুটি ধসে পড়েছে। যখন সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে তখন এলাকার রাস্তাঘাট কাঁচা ছিল। এখন রাস্তা পাকা হওয়ায় এটি এলজিইডির অধীনে চলে গেছে। ফলে পরবর্তী সময়ে নির্মাণ বা সংস্কার যা কিছু করবে এলজিইডি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী (এলজিইডি) আশাশুনি উপজেলা প্রকৌশলী মো. আকতার হোসেন জানান, বাঁকড়ায় মরিচ্চাপ নদীর ওপর একটি সেতু ভেঙে পড়েছে বলে শুনেছেন। তবে সেতুটি এলজিইডির নয়। তাছাড়া এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা পর্যায়ে কোনো অধিদপ্তর তাকে জানায়নি। অফিসিয়ালি তাকে জানালে ভেঙে পড়া সেতু অপসারণ ও নতুন সেতু নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু করতে কমপক্ষে আট-নয় মাস লাগবে ।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের জানান, সিডিউল অনুযায়ী মরিচ্চাপ নদী পুনঃখনন কাজ চলছে। এতে নদীর ওপর সেতু বা কালভার্ট ভেঙে গেলে কিছুই করার নেই বলে জানান।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়ানুর রহমান জানান, জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।









