একটি দুর্ঘটনায় দুই হাত হারাতে হয় মুক্তামনিকে। এর পর থেকে পা দিয়ে লেখার অভ্যাস শুরু করে সে। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর অবিরাম চেষ্টায় পা দিয়ে লিখেই এবারের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ ৫ অর্জন করেছে সে। তার এ ফলাফলে ভীষণ খুশি পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও শিক্ষকরা। মুক্তামনি বরিশাল হিজলা উপজেলার বুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের পূর্ব পত্তণীভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবার পিইসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। 

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা খানম বণিক বার্তাকে বলেন, অবশেষে আমাদের সব শিক্ষকের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। মুক্তামনি পিএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে। আমরা আশা করি, সামনের দিনগুলো তার আরো ভালোভাবে কাটবে এবং ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় মা-বাবার সঙ্গে মুক্তামনি হিজলা উপজেলার বুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের পত্তণীভাঙ্গা গ্রামে বসবাস করত। তার মা ঝুমুর বেগম সাভারে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেয়ার পর সে-ও চলে যায়। সেখানেই বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে মুক্তামনি দুই হাত হারিয়েছে। চিকিৎসার প্রয়োজনে প্রথমে কনুই থেকে দুটি হাত কেটে ফেলা হলেও ক্ষত ঠিক না হওয়ায় একপর্যায়ে পুরোপুরি দুটো হাতই শরীর থেকে কেটে ফেলা হয়। পরে পত্তনীভাঙ্গা গ্রামে দাদি জাহানারা বেগমের কাছে থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলে আবার পড়াশোনা করতে চায় মুক্তামনি। তার ইচ্ছাতেই ২০১৮ সালে পূর্ব পত্তণীভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীতে ভর্তি করেন।