ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯ এবং হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫৬ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকালের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত বুধবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে হামের উপসর্গে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের এবং দুজন সিলেট বিভাগের।

মৃত্যুর পাশাপাশি হামের উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৫৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯২ জনের শরীরে।

অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৭৫ জন। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৭২৬ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৭ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৯ জন।

মাসভিত্তিক হিসাবেও হামে ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর প্রবণতা কিছুটা কমেছে। তবে মৃত্যুর সংখ্যা এখনো উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। জুনে হামে ও সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছিল ১৩১ জনের। জুলাইয়ে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১২১ জনে। আর আগস্টের ২৭ দিনেই মৃত্যু হয়েছে ১১৫ জনের।

অর্থাৎ জুন, জুলাই ও আগস্টের ২৭ দিন মিলিয়ে হামে ও হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৩৬৭ জনের। এর মধ্যে আগস্টে দৈনিক গড়ে চারজনের বেশি মারা গেছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে মৃত্যু না হলেও উপসর্গে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে একদিকে নিশ্চিত হাম শনাক্তের সংখ্যা কমার প্রবণতা দেখা গেলেও অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থতা ও মৃত্যু এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ৮৫৬। এর বিপরীতে নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর বড় অংশই এখনো হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া রোগীদের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে উপসর্গযুক্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৫৬ জন। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী। ফলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার আগের তুলনায় কমলেও পরিস্থিতিকে পুরোপুরি স্বাভাবিক বলা যাচ্ছে না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌যে শিশুগুলো টিকা পাওয়া থেকে বাদ পড়ছে সেই লক্ষ্যমাত্রাটাকে একটু বিস্তৃত করতে হবে এবং বাদ যাওয়া শিশুদের যুক্ত করতে হবে। যেসব মেয়েদের বিয়ে হবে বা সদ্য হয়েছে, তাদের একটা স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনতে হবে। যাদের শরীরে হামের প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই, তাদের টিকা দিতে হবে। যদি এভাবে করা যায়, তাহলে আমরা হামকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব। মূলত এ কাজটা শতভাগ সম্পন্ন করতে হবে। অতএব সব মিলিয়ে আমাদের দ্রুত টিকার লক্ষ্যমাত্রাকে সম্প্রসারিত করে এবং সেখানে শুধু পাঁচ বছর বয়সী শিশু নয়, আরো বড়দেরও স্ক্রিনিং করে টিকার আওতায় আনা দরকার।’