মালদ্বীপের থিনাধু আইল্যান্ডে বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের দ্রুত আটক করে নির্বাসন অথবা নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড টেকনোলজি মন্ত্রী আলি ইহসান। গত শুক্রবার মালদ্বীপের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম দ্য এডিশন এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রকাশিত খবরে বলা হয়, গত শুক্রবার বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে আইল্যান্ডটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা বিক্ষোভে অংশ নেন। এ বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড টেকনোলজি মন্ত্রী আলি ইহসান বলেন, ‘‌ভিনদেশী নাগরিকরা মালদ্বীপে এসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে পারেন না। এটা দেশের ভিসা আইনের লঙ্ঘন।’

মালদ্বীপে বসবাসরত সব প্রবাসীর সার্বিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দেশের কোনো ইস্যু নিয়ে প্রবাসে বিক্ষোভ না করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মিশনের শ্রম কাউন্সেলর এবং দূতাবাস।

এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হলে বলা হয়, বিদেশী রাষ্ট্রগুলো তাদের আইন অনুযায়ী যেকোনো ব্যবস্থা নিতে পারে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ হস্তক্ষেপ করবে না। প্রবাসীদের আইন মেনে চলার পরামর্শ দেয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

এ ঘটনায় জড়িত বাংলাদেশীদের আটক ও নির্বাসনে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা। গত শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে ট্রান্সপারেন্সি মালদ্বীপ, জনস্বার্থ আইন কেন্দ্র ও মালদ্বীপের অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেসি জানায়, সবারই মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার অনুচ্ছেদ ২০-এর অধীনে শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করার অধিকার রয়েছে, যা মালদ্বীপের আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত আছে। মালদ্বীপের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে বলা আছে, সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া প্রত্যেকের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার অধিকার দিয়েছে। 

সংস্থাগুলো বিবৃতিতে জানায়, ভিসার ওপর এমন শর্ত আরোপ মালদ্বীপের সংবিধানের অধীনে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে এবং তা বেআইনি। এটি শ্রমিকদের দেয়া মৌলিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন।

সংগঠনটি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সাংবিধানিক এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কনভেনশনগুলোকে বহাল এবং অভিবাসীদের তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করার জন্য নির্বাসনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। সব অভিবাসী শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের অধিকার রক্ষার আন্তর্জাতিক কনভেনশন গ্রহণ করতে হবে। মালদ্বীপের আইনের অধীনে সব অভিবাসীদের জন্য অধিকার সুরক্ষা এবং সুরক্ষার ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারী ব্যবস্থা এবং বৈষম্য থেকে বিরত থাকতে হবে। সংস্থাগুলো আরো উল্লেখ করেছে যে অভিবাসীরা মালদ্বীপে কর্মরত জনসংখ্যার ৩২ শতাংশ এবং তারা মালদ্বীপের অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।