ভোক্তা ঋণ বা কনজ্যুমার ফাইন্যান্সিং (গাড়ি, বাড়ি বা গৃহস্থালি সামগ্রী কেনার ঋণ) বিতরণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে গাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার ঋণের টাকা সনাতন পদ্ধতির পে-অর্ডার বা চেকের মাধ্যমে পরিশোধের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে ব্যাংকগুলো সরাসরি বিক্রেতার (ভেন্ডর) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তাৎক্ষণিকভাবে ঋণের টাকা স্থানান্তর করতে পারবে।
আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধান ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার পাঠানো হয়েছে।
২০০৪ সালের পুরোনো নীতিমালা অনুযায়ী, ঋণের টাকার অপব্যবহার বা অন্য খাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে ফ্রিজ, টিভি বা গৃহস্থালি পণ্য কেনার ঋণ এবং পেশাজীবীদের ঋণের অর্থ বিক্রেতার নামে পে-অর্ডার বা চেকের মাধ্যমে দেয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে বর্তমান সময়ের পেমেন্ট সিস্টেমের ব্যাপক ডিজিটালাইজেশনের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি এ ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা যুক্ত করার ফলে ব্যাংক ও গ্রাহক উভয় পক্ষেরই সময় ও খরচ কমবে।
এটি কাগজের ব্যবহার হ্রাস করবে, সেটেলমেন্টের দীর্ঘসূত্রতা দূর করবে এবং চেক বা পে-অর্ডারসংক্রান্ত জালিয়াতির ঝুঁকি সম্পূর্ণ দূর করবে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে রিয়েল-টাইম বা তাৎক্ষণিক তহবিল স্থানান্তর সম্ভব হওয়ায় ব্যাংকের তারল্য ব্যবস্থাপনা আরো সহজ হবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো বিদ্যমান ব্যবস্থার পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে সরাসরি বিক্রেতাদের অর্থ পরিশোধ করতে পারবে। পণ্য বিক্রেতা বা সরবরাহকারীর হিসাব যদি ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকের একই শাখায় বা একই ব্যাংকে থাকে, তবে সরাসরি ফান্ড ট্রান্সফার করা যাবে। আর উভয়ের হিসাব ভিন্ন ব্যাংকে হলে ঋণ বিতরণকারী ব্যাংককে ‘রিয়েল-টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট’ বা আরটিজিএস ব্যবস্থার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা পাঠাতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ভোক্তা ঋণের অর্থ কোনো অবস্থাতেই সরাসরি ঋণগ্রহীতার (গ্রাহক) ব্যক্তিগত হিসাবে জমা করা বা তাকে নগদে পরিশোধ করা যাবে না। ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এ কড়াকড়ি।
ডিজিটাল মাধ্যমে এ বিশাল অংকের লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকারও নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ডিজিটাল অর্থ বিতরণের কারণে সৃষ্ট সাইবার নিরাপত্তা, জালিয়াতি ও তৃতীয় পক্ষ ঝুঁকি কিংবা ভুল হিসাবে টাকা চলে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো প্রতিরোধে ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নীতিমালায় উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখতে হবে। ভুল হিসাবে টাকা চলে গেলে বা ভুল বিক্রেতার কাছে তহবিল স্থানান্তরিত হলে এর সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংককেই নিতে হবে।










