সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোয় দিন দিন তরমুজ চাষ বাড়ছে। এর মধ্যে অন্যতম গোয়াইনঘাট উপজেলা। এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১ হাজার ১০০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষাবাদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। এরই মধ্যে কয়েক কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন বলে দাবি কৃষকের। অন্যদিকে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সিলেটের তরমুজ দেশের বিভিন্ন জেলায়ও সরবরাহ হচ্ছে। সিলেটের সবজি রফতানিকারকরা মনে করছেন, জেলায় উৎপাদিত তরমুজ রফতানিও সম্ভব হবে।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, গোয়াইনঘাট উপজেলায় এবার ১ হাজার ১০০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষাবাদ করা হয়েছে। হাওর, বিলের পাড়, নদীতীর ও ধান আবাদের জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন কৃষক। উপজেলার পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নেই শুধু ৫৬১ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষাবাদ করা হয়েছে। প্রতি খেতে কৃষক ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা ব্যয় এবং ২-১০ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। গোয়াইনঘাটের পাশাপাশি কানাইঘাট উপজেলার সুরমা নদীর তীরবর্তী এলাকায়ও তরমুজ চাষ হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর অক্টোবর-নভেম্বর থেকে কৃষক তরমুজ চাষাবাদ শুরু করেন। জানুয়ারির শেষ দিক থেকে তরমুজ তোলা শুরু করেন। প্রতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত এ উপজেলায় তরমুজ বেচাকেনা থাকে জমজমাট। আনারকলি, ব্লাক জায়ান্ট, সাগর, আবে ড্রাগন, সীমান্ত, ব্লাক ব্রো, ব্লাক সাইন, বাংলালিংক, গ্লোরি, জাম্বু, পাকিজাসহ বিভিন্ন জাতের তরমুজ চাষ করা হয় গোয়াইনঘাট উপজেলায়। প্রায় দুই যুগ এলাকায় তরমুজ চাষ হলেও গত চার-পাঁচ বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে তরমুজ চাষাবাদ হচ্ছে। তবে এ বছর সবচেয়ে বেশি জমিতে তরমুজ চাষাবাদ করা হয়েছে।
গোয়াইনঘাটের পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের খাস হাওর সোনাপুরে কাতারফেরত ফখরুল ইসলাম ও ওমানফেরত হেলাল উদ্দিন আপন দুই ভাই। তার দুজনে মিলে তরমুজ চাষ করেছেন। বিদেশে আয়-রোজগার বেশি না হওয়ায় তারা পালা করে ২০০৯-১০ সালে দেশে ফেরেন। দেশে এসেই তারা জড়ান কৃষি কাজে। নিজেদের পাশাপাশি এলাকাবাসীর জমিও নেন বর্গা। সেই থেকে তাদের আর পিছু তাকাতে হয়নি। ফসলের মাঠজুড়ে শুধুই সফলতার গল্প।
এবার দুই ভাই মিলে ১৪ বিঘা জমিতে বাংলালিংক ও দেশী প্রজাতির তরমুজ চাষ করেছেন। এতে ব্যয় হয়েছে ৮ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত তারা ১৪ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন।
জালালাবাদ ভেজিটেবল অ্যান্ড ফ্রোজেন ফিশ এক্সপোর্ট গ্রুপের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সিলেটে উৎপাদিত বিভিন্ন সবজি বিদেশে পাঠানো হয়। এবার তরমুজ রফতানিরও সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে তরমুজও রফতানিপণ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।’
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনি বলেন, ‘উপজেলায় ১ হাজার ১০০ বিঘা জমিতে এবার তরমুজ চাষাবাদ হয়েছে। প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন কৃষক। চাষাবাদ থেকে তরমুজ বিক্রি পর্যন্ত আমার অফিস থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে। প্রান্তিক কৃষককে বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশকসহ সব ধরনের পরামর্শ দিয়েছি।’









