অল্প সময়ের মধ্যে কারফিউ প্রত্যাহার এবং সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফেরানোর কথা বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইসকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি এও বলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া চলছে এবং যেকোনো মুহূর্তে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।’ গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইসের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইসের সঙ্গে বৈঠকে কী কথা হয়েছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা অনেক কিছুই জিজ্ঞাসা করেছে। আর কতদিনের মধ্যে অবস্থা স্বাভাবিক হবে, কারফিউ কবে উঠবে ইত্যাদি। আমরা বলেছি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে। অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা কারফিউ উইথড্র (প্রত্যাহার) করতে পারব। তারা দুই-একজন কিশোরের মৃত্যুর কথা জানতে চেয়েছিল। আমরা একটা কিশোরের কথা বলেছিলাম যে ওর বয়স কত এখনো আমরা তার সার্টিফিকেটটি পাইনি। স্কুল থেকে জানাচ্ছে সাড়ে ১৭ বছর। কিন্তু সেই ছেলেটি যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল।’

সংঘাতে প্রাণহানির বিষয়েও জাতিসংঘ প্রতিনিধি দল জানতে চেয়েছিল জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি, এ ঘটনাগুলো আমাদের পুলিশ কিংবা নিরাপত্তা বাহিনী ইচ্ছে করে বা কারো প্ররোচনায় করেনি। মানুষের জানমাল এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করার জন্যই তারা গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে। এতে হয়তো অনেকে আহত হয়েছেন। এর পরও যখন থামেনি, তখন পুলিশ নন লেথাল আর্মস ফায়ার করতে বাধ্য হয়েছে। আমরাও কারফিউ দিতে বাধ্য হয়েছি।’

কয়েক দিনের সংঘাতে কেবল আন্দোলনকারী নয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি দলের ‘অনেকে’ মারা গেছেন, সে তথ্য জাতিসংঘ প্রতিনিধি দলকে দেয়ার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 

সহিংসতা দমনে জাতিসংঘের লোগো লাগানো শান্তি মিশনের গাড়ি ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইউনাইটেড নেশনসের এপিসি ভেহিকলটা আর্মিরা ব্যবহার করেছে। আর্মিরা ইউনাইটেড নেশনস থেকে যখন ফেরত এনেছে, আর্মিরা তাড়াহুড়ো করে বোধ হয় বের করেছিল। যখন দৃশ্যমান হয়েছে, আর্মিরা সঙ্গে সঙ্গেই এটাকে সরিয়ে নিয়ে গেছে।’