ইতিহাস-ঐতিহ্যের সন্ধানে বগুড়ার মহাস্থানগড়ের ‘বৈরাগীর ভিটা’
নামক স্থানে খননকাজ শুরু হয়েছে। খননকাজ সম্পন্ন হলে মার্চের শেষে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে মহাস্থানগড়ে পুরাকীর্তির ওপর একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
গতকাল সকালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে মহাস্থানগড়ের ‘বৈরাগীর ভিটা’
খননকাজ উদ্বোধন করেন রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের পরিচালক এবং খননকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাঠ পরিচালক ড. নাহিদ সুলতানা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের কাস্টডিয়ান ও খননকাজের দলনেতা রাজিয়া সুলতানা, প্রধান নকশা অঙ্কনকারী আফজাল হোসেন মণ্ডল, আলোকচিত্রী আবুল কালাম আজাদ, সার্ভেয়ার মুরশিদ কামাল ভূঁইয়া প্রমুখ।
বগুড়ার মহাস্থানগড়ের কাস্টডিয়ানের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন নগরী বগুড়ার মহাস্থানগড়। আড়াই হাজার বছর আগে ইতিহাস ও ঐতিহ্যসমৃদ্ধ ছিল এ নগরী। মহাস্থানগড়ের ভেতরের একটি অংশের নাম বৈরাগীর ভিটা। এ স্থানটি একটি রাজবাড়ী ছিল বলে ধারণা করা হয়। সেই সময়ের রাজারা মুনি, ঋষি বা বৈরাগীর সেবা করতেন বলে স্থানটির নাম বৈরাগীর ভিটা। মহাস্থানগড়ের দুর্গ নগরীর প্রাচীরের দক্ষিণে অবস্থিত বৈরাগীর ভিটায় ১৯২৮ সালের দিকে প্রথম প্রত্নতাত্ত্বিক খনন চালিয়ে পাল আমলের প্রাথমিক ও শেষ যুগের দুটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। এর পাশের স্থানের নাম ধরা হয় লইয়েরকুড়ি বা মহাস্থানভিটা হিসেবে। প্রত্নতত্ত্ব কিছু পাওয়ার আশা থেকে বগুড়ার মহাস্থানগড়ের লইয়েরকুড়ি ও বৈরাগীর ভিটায় খননকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর। খননকাজটি শেষ হয় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। খননকাজ করে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স যৌথভাবে। ওই সময় প্রায় দুই মাস খননের পর পাওয়া যায় গুপ্ত, পাল ও মৌর্য্য আমলের ধ্বংস হয়ে যাওয়ার অবকাঠামো ও বেশকিছু প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নিজস্ব অর্থায়নে খননকাজ পরিচালনা করার পর উন্মোচিত অবকাঠামো নিয়ে গবেষণা করা হয়। এরপর আবারো খননকাজ শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে, করোনা ভাইরাস থাকায় মাঝে খননকাজ বন্ধ ছিল। করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ার কারণে আবারো খননকাজ শুরু হয়েছে। এবার চলতি বছরের মাসব্যাপী খননকাজ চলবে। খননে প্রাপ্ত প্রত্ন সামগ্রী নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. নাহিদ সুলতানা জানান, করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারো খননকাজ শুরু হয়েছে।










