ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের নির্বাচনী ইশতাহার ঘোষণা করেছে গণসংহতি আন্দোলন। রাজধানীর হাতিরপুলে গতকাল দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতাহার প্রকাশ করেন গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন দলটির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু, তাসলিমা আখতার, কেন্দ্রীয় সদস্য বাচ্চু ভুইয়া, অঞ্জন দাস, আমজাদ হোসেন ও সুমনা লুৎফুন্নাহার।

ইশতাহার ঘোষণাকালে আবুল হাসান রুবেল বলেন, ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারসহ মুক্তিযুদ্ধের যেসব অঙ্গীকার ছিল চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্যহীনতার ভাষায় তা আবারো সামনে এসেছে। গণসংহতি আন্দোলন সে অঙ্গীকার বাস্তবায়নের রূপরেখাই ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতাহারে তুলে ধরেছে। এ ইশতাহার কেবল কিছু প্রতিশ্রুতির সমাহার নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিশা এবং বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার সম্ভাবনা বাস্তবায়নের পথনকশা।’

গণসংহতি আন্দোলনের ইশতাহারে বলা হয়, দলটির প্রধান লক্ষ্য হলো একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি সম্পদের বণ্টনেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে এবং গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে দুর্নীতি দূর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।

ইশতাহারে শ্রমিক, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, জাতি-ধর্ম-শ্রেণী-লিঙ্গভিত্তিক সব ধরনের বৈষম্যের অবসান, অর্থনীতির রূপান্তরের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক খাতকে আনুষ্ঠানিক খাতে নিয়ে আসা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়ছে। পাশাপাশি কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করে কৃষি খাতের বিকাশেরও অঙ্গীকার করা হয়। এতে স্বাস্থ্য খাতে ‘চিকিৎসার অভাবে কেউ মারা যাবে না’—এমন নীতির ভিত্তিতে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়।

নারীর রাজনৈতিক অধিকার ও ক্ষমতায়ন, সব নারীর সমমর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এ ইশতাহারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে দাবি করছে গণসংহতি। এছাড়া ইশতাহারে প্রাণ-প্রতিবেশ ও প্রকৃতির সুরক্ষায় সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরিবেশ ইস্যুকে প্রাধান্য দেয়া, নদী-খাল ও বনভূমি দখল ও দূষণমুক্ত করা, ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং প্রকৃতিবান্ধব নগরায়ণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।