স্ত্রী হত্যায় যাবজ্জীবন সাজা মাথায় নিয়ে ২৭ বছর ধরে আত্মগোপনে ছিলেন নজরুল ইসলাম (৫৫) নামে এক ব্যক্তি। রাজশাহীর তানোর এলাকার বাসিন্দা নজরুল পালিয়ে গিয়ে স্থায়ী হয়েছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের সুন্দরপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায়। নাম-পরিচয় পাল্টে সেখানে বিয়েও করেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। গতকাল ভোরে তাকে গ্রেফতার করেছে তানোর থানা পুলিশ।

নজরুল ইসলাম তানোরের ছাঐড় এলাকার মৃত ভন্ডু মন্ডলের ছেলে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিজের নাম আব্দুল আজিজ, বাবার নাম মশির মন্ডল উল্লেখ করে জাতীয় পরিচয়পত্র নেন। দ্বিতীয় বিয়ে করে সেখানেই স্থায়ী হন। এ সংসারে তার তিন সন্তান রয়েছে।

পুলিশ বলছে, নজরুল ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করতেন। মাঝে মধ্যে দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে আসতেন। দীর্ঘ ২৭ বছর পরিবারের সঙ্গে একেবারেই বিচ্ছিন্ন ছিলেন তিনি।

তানোর থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া জানান, স্ত্রী হত্যার দায়ে নজরুল ইসলামের নামে ১৯৯৫ সালের ২৭ মে তানোর থানায় হত্যা মামলা হয়। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।স্ত্রী হত্যার দায়ে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। মামলা হওয়ার পর নিরুদ্দেশ হন নজরুল।

ওসি আরো জানান, গ্রেফতার এড়াতে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেছিলেন নজরুল। নাম-পরিচয় পাল্টে আলাদা সংসারও করছিলেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গতকাল রাত ৩টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের সুন্দরপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।