বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা তদন্তে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান বলেছেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ড কোনো ধরনের বিদ্রোহ ছিল না, এটি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছিল। এর মাধ্যমে বিডিআর, সেনাবাহিনী ও দেশকে দুর্বল করে দেয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে বিডিআর বিদ্রোহে বেঁচে ফেরা ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
১৫ বছর আগে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) সদর দপ্তর পিলখানায় বিদ্রোহী জওয়ানদের হামলায় নিহত হন ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন। নির্যাতনের শিকার হয়ে বেঁচে ফেরেন ৫৫ জন। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যান স্বৈরাচার সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা। এরপর বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের দাবি ওঠে বিভিন্ন মহলে। সে দাবি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে ১৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বরে গঠন করা হয় ৭ সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিশন। কমিশনের সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মতবিনিময় সভায় উঠে আসে সে সময়ের ভয়াবহতা ও নির্মমতার কথা। সঠিক বিচার না হওয়ায় আক্ষেপ জানান স্বজন হারানো পরিবারের সদস্যরা। প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে ৯০ দিনের মধ্যে কমিশন সরকারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সময় ও হত্যাকাণ্ডের আগে–পরে হওয়া অপরাধের স্বরূপ উদ্ঘাটন, ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা বা ঘটনার সহায়তাকারী দেশী-বিদেশী ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও দোষীদের চিহ্নিত করবে তদন্ত কমিশন। এ কমিশন বাংলাদেশের যেকোনো স্থান পরিদর্শন এবং সন্দেহভাজন যেকোনো ব্যক্তিকে কমিশনে তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। কমিশন প্রয়োজনে যেকোনো ব্যক্তিকে কমিশনের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।
মতবিনিময় সভায় কমিশনের প্রধান বলেছেন, স্বচ্ছভাবে তদন্ত করে তিন মাসের মধ্যে পিলখানা হত্যাযজ্ঞের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও আনা হবে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায়। আমরা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়টাকে দুই মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলতে চাই। একটা মাস রাখব, আমরা যাদের সন্দেহ করি, বিশেষ করে ভারতে অবস্থান করা শেখ হাসিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ব্যাপারে ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে শেখ হাসিনা এসে কথা বলবেন, কিংবা আমাদের টিম সেখানে গিয়ে তার সাক্ষাৎকার নেবে।
তদন্ত কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. সাইদুর রহমান, সাবেক যুগ্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, সাবেক উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এম আকবর আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক শাহনেওয়াজ খান।










