বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলীর (রহ.) মাজারসংলগ্ন
দিঘির অসুস্থ কুমির মাদ্রাজের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। গতকাল দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দা ও করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের সদস্যদের সহায়তায় কুমিরটিকে ডাঙ্গায় ওঠানো হয়। পরে জেলা প্রাণিসম্কদ কর্মকর্তা ডা. লুত্ফর রহমান ও করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবীর কুমিরটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন। কুমিরটিকে সুস্থ করতে তাত্ক্ষণিকভাবে বেশকিছু ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। পর্যবেক্ষণের জন্য কুমিরটিকে আগামী ১০ দিন দিঘিসংলগ্ন একটি বাড়িতে রাখা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল ফকির বলেন, কুমিরটি বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। ডিসি স্যারের নির্দেশনায় আমরা কয়েকজন মিলে খুব সতর্কভাবে কুমিরটিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ওপরে উঠিয়েছি। এ সময় করমজলের কুমির বিশেষজ্ঞ আজাদ ভাই আমাদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।
সুন্দরবন বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবীর বলেন, কুমিরটিকে ওপরে ওঠানোর পর আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছি। কুমিরটির চোয়ালের মাঝে যে ক্ষত ছিল সেটি এখন নেই। তবে শুনেছি কুমিরটি একটি চোখে মোটেও দেখতে পাচ্ছে না এবং একটি চোখে ঝাপসা দেখছে। তাই জেলা প্রাণিসম্কদ কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শক্রমে ১০ দিন পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আরো বলেন, কুমিরটি দেখে আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটির বয়স অন্তত ৪০-৫০ বছর। ফলে এটির ওজন অনেক বেড়ে গেছে, যা ৮০০-৯০০ কেজির মতো হবে। অপ্রয়োজনীয় চর্বি কমানোর জন্য কুমিরটিকে পরিমিত খাবার দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
জেলা প্রাণিসম্কদ কর্মকর্তা ডা. লুত্ফর রহমান বলেন, কুমিরটিকে ওপরে ওঠানোর পর আমরা তাত্ক্ষণিক কিছু ওষুধ প্রয়োগ করেছি। কুমিরটি এখন মোটামুটি সুস্থ। তবে কুমিরটির চোখ বেশ ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব। এবং তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেয়া হবে।
খান জাহান আলীর (রহ.) মাজারের
প্রধান খাদেম ফকির শের আলী বলেন, মিঠা পানির কুমির খান জাহান আলীর মাজারসংলগ্ন দিঘিসহ বাগেরহাটের একটি ঐতিহ্য। বেশ কিছুদিন ধরে কুমিরটি অসুস্থ ছিল। আমরা জেলা প্রশাসক ও প্রাণিসম্কদ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। আজকে কুমিরটির চিকিৎসা শুরু হয়েছে। আশা করি কুমিরটি দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, স্থানীয় কিছু লোভী প্রকৃতির মানুষ কুমির তাদের ঘাটে রাখতে চায়। দর্শনার্থীদের কুমির দেখিয়ে অর্থ উপার্জনই তাদের উদ্দেশ্য। এজন্য তারা কুমিরকে বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর খাবার দেন। বিষয়টি নজরে এনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, প্রায় ৬০০ বছর ধরে ঐতিহ্যবাহী খান জাহান আলীর (রহ.) দিঘির
শতবর্ষী কুমির কালাপাহাড় ও ধলাপাহাড়ের মৃত্যুর পর ২০০৬ সালে মাদ্রাজ থেকে মিঠাপানির দুটি কুমির এ দিঘিতে অবমুক্ত করা হয়।










