সরকার যদি মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারে, তাহলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। প্রতিবেদনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানায়, সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরের ৩৬ দিনে সারা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ১৫ জন দলীয় নেতাকর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।
গবেষণা প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, ২০২৫ সালে ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১০২ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে নিখোঁজ হয়েছে এক হাজার ৩৩৩টি আগ্নেয়াস্ত্র। থানা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়া এবং নতুন করে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়ার উদ্যোগ নেয়ায় সহিংসতার ঝুঁকি আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।
আরও বলা হয়, বর্তমান নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় সহিংসতা, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হেনস্তা, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ওপর হামলা এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মতো একাধিক ঘাটতি স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে।
এ সময় জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রেও আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরে টিআইবি। প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেফতার ও রিমান্ডে পুরোনো ধারা বহাল রয়েছে। অযৌক্তিক মামলা দায়ের, বিনা বিচারে আটক, জামিনযোগ্য মামলায়ও দীর্ঘদিন জামিন না দেয়া এবং ক্ষেত্রবিশেষে সরকারি প্রভাবের অভিযোগ ওঠে এসেছে। এমনকি সাংবাদিক ও পেশাজীবীদের হত্যা মামলায় আসামি করার ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সংস্থাটি বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে, আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া বা ‘মব’ প্রবণতা নিয়ে। গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এ ছাড়া ‘মব’ তৈরি করে দাবি আদায়ের প্রবণতা এবং অনেক ক্ষেত্রে বলপূর্বক দাবি আদায়ে সাফল্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এসব পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কৌশল বা কার্যকর পদক্ষেপের অভাব, এমনকি নিষ্ক্রিয়তা ও তোষণমূলক অবস্থানের কারণে অতি ক্ষমতায়নের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।
কারা হেফাজতে ও সেনাবাহিনীর হেফাজতে বিচারবহির্ভূত হত্যা, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, ঢালাওভাবে মামলায় আসামি করা, গ্রেফতার বাণিজ্যসহ নানা ঘাটতির কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।










