বিএনপি সরকার গঠনের ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। ১৮০ দিনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার বেশকিছু কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল। একই সময়ে দল গোছানোর জন্য পৃথক কোনো কর্মসূচি নিয়েছিলেন কিনা?

দল ও সরকারের বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। বিএনপি চেয়ারম্যান তথা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতিগুলো দলের নির্বাচনী ইশতাহার ও ৩১ দফা কর্মসূচিতে রয়েছে। এর আগে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দেয়া ‘ভিশন-২০৩০’ বাস্তবায়ন করাই ছিল মূল লক্ষ্য। ছয় মাসে যতটুকু অগ্রগতি প্রয়োজন ছিল, তার অধিকাংশই অর্জিত হয়েছে বলে মনে করি। তবে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন পাঁচ বছর মেয়াদি বিষয়; মেয়াদ শেষেই বোঝা যাবে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের লক্ষ্য কতটা পূরণ হলো। সরকারপ্রধানের গতিশীল নেতৃত্বে এ কাজগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

অনেকেরই অভিযোগ, দল ও সরকারের মধ্যে বিএনপি এখনো স্পষ্ট কোনো তফাত তৈরি করতে পারেনি; এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

আমি তা মনে করি না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণ যে দলকে নির্বাচিত করে, সেই দলের প্রতিনিধিদের ওপরই সরকার পরিচালনার দায়িত্ব বর্তায়। যারা নির্বাচিত হয়ে এমপি বা মন্ত্রী হয়েছেন, তারা মূলত দলেরই নেতা। তাদের তো দল থেকে বাদ দেয়া যায় না, নিজ এলাকার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তাদের যুক্ত থাকতে হয়। তবে সার্বক্ষণিক সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আলাদা দায়িত্বশীল নেতৃত্ব থাকে, যারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দলের খোঁজখবর রাখা ও সাংগঠনিক বিষয়াদি দেখভাল করেন। আমরা যেমন যুগ্ম মহাসচিব, ভাইস চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদে থাকা নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সার্বক্ষণিকভাবে এ সাংগঠনিক কাজগুলো করে যাচ্ছি।

দল গোছানোর জন্যই কি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি?

মনোনয়ন দেয়া না দেয়া দলের নিজস্ব ব্যাপার; দল হয়তো তখন আমাকে উপযুক্ত মনে করেনি। তবে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে আমার মূল দায়িত্বই ছিল দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখা। ভাবমূর্তি ঠিক থাকলে জনসমর্থন বাড়ে, আর সেই জনপ্রিয়তার জোরেই দল নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসে, যা আমরা তিন প্রজন্মে দেখেছি।

স্বাধীনতার ঘোষক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমানে তারেক রহমান—তাদের ভাবমূর্তি, কর্মকাণ্ড ও আদর্শিক অবস্থান জাতি সবসময় ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে; রাজনীতিতে জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা থেকে তারা কখনো বিচ্যুত হননি।

তাদের যে ইমেজ, তাদের যে কর্মকাণ্ড এবং আদর্শের প্রশ্নে তাদের যে অবস্থান জাতি তা ইতিবাচকভাবে দেখেছে। অর্থাৎ রাজনীতিতে মানে জনগণের কাছে কথা দিয়ে সে কথাটা রক্ষা করা—এর ব্যতিক্রম কেউ কখনো করেননি।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অবদান রেখেছেন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে। দেশের ক্রান্তিকালেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি। ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় বিশাল ক্র্যাকডাউন হচ্ছে, গণহত্যা হচ্ছে। ওই মুহূর্তে স্বাধীনতার ঘোষণা দিচ্ছেন একজন মেজর। তিনি তখন রাজনীতিও করতেন না, ছিলেন একজন পেশাদার সৈনিক। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, কারণ তখন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। তিনি ইতিহাসের একটা বিরাট দায়িত্ব পালন করলেন। পরবর্তী সময়ে পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বর একটি অভ্যুত্থান বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনী ও জনগণ ওনাকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আনে। এর পরই তার প্রত্যেকটা ইতিবাচক কাজের জন্যই বিএনপি জনপ্রিয় হয়েছে।

নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানেও বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল...

মুক্তিযুদ্ধ, ৭ নভেম্বর কিংবা নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান—ইতিহাসের প্রতিটি ক্রান্তিকালে বিএনপি ও এর নেতারা জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। একাত্তরে বিএনপি প্রতিষ্ঠা না হলেও স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে ঐতিহাসিক অবদান রেখেছিলেন, তা দলের জন্য বড় অর্জন। পরবর্তী সময়ে বিএনপি গঠনের পর তিনি বাকশালে ভূলুণ্ঠিত সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধে খাল খনন, উৎপাদন বৃদ্ধি ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার সূচনাও তার হাত ধরেই। স্বাধীনতার সুরক্ষা, সার্বভৌমত্ব সুসংহতকরণ এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র নিশ্চিতকরণে তিনি যে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শন দিয়েছিলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের শত অপচেষ্টায়ও তা মুছে ফেলা যায়নি। এ কারণেই রাষ্ট্র যতদিন থাকবে, বিএনপির প্রাসঙ্গিকতাও ততদিন টিকে থাকবে।

জিয়াউর রহমানের এ আদর্শকে আপসহীনভাবে এগিয়ে নিয়েছেন খালেদা জিয়া। অত্যাচার-নির্যাতনসহ নানাবিধভাবে তাকে পর্যদুস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তার ছেলের ওপর আঘাত করা হয়েছে। এরশাদের আমলে বারবার তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। এত কিছুর পরও কিন্তু খালেদা জিয়াকে তার আপসহীনতা এবং জনগণের কাছে দেয়া অঙ্গীকার থেকে কেউ পিছপা করতে পারেনি। পরে শেখ হাসিনা নানা চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ২০০৯ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন। ক্ষমতায় এসেই বাবার বাকশালি ফ্যাসিজম ফিরিয়ে আনলেন। বাবার বাকশালি ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে চরম নিপীড়ন চালান। এর বিরুদ্ধে নিরন্তর লড়াই করতে গিয়ে অসুস্থ শরীর নিয়ে কারাভোগ ও গৃহবন্দি থাকলেও খালেদা জিয়া কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত বা আপস করেননি। এগুলো বিএনপির গৌরব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের আরাধ্য কাজগুলো বাস্তবায়ন করছেন। এর সঙ্গে নিজের কিছু চিন্তা, নিজের কিছু পরিকল্পনা, নিজের কিছু স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা তিনি চালাচ্ছেন।

অনেকেই দাবি করেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে বিএনপি সামনের সারিতে প্রকাশ্য ভূমিকায় আসেনি?

কিছু রাজনৈতিক দল এ নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা যদি আন্দোলনে না-ই থাকতাম, তাহলে আমাকে গ্রেফতার হতে হলো কেন? আগের দিন দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছিলাম এবং নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে পরদিন দুপুর ১২টার আগেই প্রেস ক্লাবে যাই। সেখানে সমাবেশ চলাকালে ক্লাবের ভেতর থেকে প্রকাশ্যে আমাকে টেনেহিঁচড়ে গ্রেফতার করা হয়। এমনকি সেই রাতেই থানা হাজতে নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে আমার দেখা হয়।

কত তারিখ ছিল?

১৯ জুলাই।

কতদিন আপনারা জেলে ছিলেন?

শেখ হাসিনার পতনের পর আমরা মুক্ত হলাম। আমি, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আমিনুল হকসহ অসংখ্য মানুষ সেদিন কারাগার থেকে মুক্তি পাই। এছাড়া আরো অনেকে ছিল যাদের নাম এ মুহূর্তে মনে পড়ছে না। আরো শত শত নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। তারপর ছাত্রদলের ১৪২ জনের মতো কর্মী।

জুলাই আন্দোলনে শুধু গ্রেফতার নয়, বিএনপির অনেক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন, শহীদ হয়েছেন। এত মানুষের আত্মদানের ঘটনাকে একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্কিত করে ছোট করে দেখার চেষ্টা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক স্টাইলেরই প্রতিফলন। শেখ হাসিনা যেমন মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে একটি দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করতেন এবং অন্য কাউকে এর অংশীদার করতে চাইতেন না, এখন যারা বিএনপির ভূমিকা নিয়ে একই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন, তাদের কথার মধ্যেও সে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

আমি তো দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। আমাকে ১৯ জুলাই গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে ১০ বা ১১ জুলাই পর্যন্ত আমরা দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত কাজ করেছি। রাত ১০টা-সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দলীয় বিবৃতি প্রস্তুত করে প্রকাশ করেছি। এরপর দলীয় কার্যালয়ে আমার কক্ষে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজানো হয়।

কিন্তু আমি কি অস্ত্রধারী? আমার বয়স, রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ ইতিহাস ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড সবারই জানা। এর পরও আমার কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের যে ঘটনা দেখানো হয়েছিল, সেটি ছিল একটি সাজানো নাটক। জুলাই আন্দোলনের সময়ই কেন এ ঘটনা ঘটানো হয়েছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

ছাত্রদের আন্দোলনের প্রতিটি কর্মসূচিকে বিএনপি শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে সমর্থন করেছে। ‘কমপ্লিট শাটডাউন’সহ বিভিন্ন কর্মসূচির সময় দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে সরাসরি কাজ করার সুযোগ না থাকায় আত্মগোপনে থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। বাংলা ব্লকেডসহ আরো যেসব, মানে আমি ১৯ জুলাই গ্রেফতার হওয়া পর্যন্ত যে ক’টা কর্মসূচি হয়েছে প্রত্যেকটায় বিএনপি অংশগ্রহণ করেছে। বিএনপি যদি আন্দোলনে অংশগ্রহণ না করত, তাহলে এত মানুষ শহীদ হলেন কীভাবে? এ প্রশ্ন তুলে বিএনপির ভূমিকা অস্বীকার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের বক্তব্য অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপির পলিসি কী?

দলের নিজস্ব নীতিমালা ও গঠনতন্ত্র রয়েছে। সে গঠনতন্ত্রের আলোকে দল পরিচালিত হচ্ছে। সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যেসব জেলায় কাউন্সিল হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রকাশ্য ভোটাভুটির মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে। বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতির কাজও চলমান রয়েছে। যেসব কমিটি এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা হবে। দলীয় কাউন্সিলের তফসিল ঘোষণার পর যেসব জেলা সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, সেসব জেলায় দ্রুত সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হবে।

বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কতটা প্রস্তুত বলে মনে করেন?

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্মমতা ও ভয়াবহ পরিস্থিতি দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দেখেছেন। তারা নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে রাজনীতি করেছেন। তাই তারা চান, দেশ এগিয়ে যাক, সমৃদ্ধ হোক এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠুক। বর্তমান সরকার যাতে তার কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, সেজন্য দলকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে। বিএনপির প্রতিটি পর্যায়ের নেতাকর্মী সে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত।

দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল করার ক্ষেত্রে মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে আপনার পরিকল্পনা কী?

দলের অন্যান্য নেতার সঙ্গে আলোচনা করে একটি সাংগঠনিক গাইডলাইন তৈরি করা হবে। এরপর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা নেয়া হবে। ওনার কাছ থেকে গাইডলাইন পাওয়ার পর আমরা সাংগঠনিক ড্রাইভ দেব। তাছাড়া সাংগঠনিক কার্যক্রম কখনো থেমে থাকে না। দলীয় কার্যালয়ে যাওয়া, নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের অভাব-অভিযোগ শোনা—এসবও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অংশ। আমার পর্যায় থেকে যেসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব, সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি। যেসব বিষয়ে চেয়ারম্যানের অনুমোদন প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে ওনার অনুমতি নেয়া হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য বিএনপি কতটা প্রস্তুত?

দলকে নতুন করে প্রস্তুত করার প্রয়োজন নেই। বিএনপি এরই মধ্যেই প্রস্তুত। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কেন্দ্র থেকে চাপিয়ে দেয়ার পরিবর্তে তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হবে। স্থানীয় পর্যায়ের দলীয় ইউনিটগুলো নিজেদের এলাকার জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে বাছাই করবে। যিনি দলের সদস্য হতে পারেন, আবার দলের বাইরে থেকেও জনপ্রিয় হতে পারেন—এমন ব্যক্তির প্রতি স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন থাকলে তাকে সবাই মিলে সমর্থন দিতে পারে। এখানে জাতীয় নির্বাচনের মতো সরাসরি মনোনয়ন দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে না; বরং স্থানীয় পর্যায়ে সমর্থনের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। একই সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ পাল্টা প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জাতীয় নির্বাচনে যাদের বহিষ্কার করেছিলেন তাদের আবার দলে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছেন কিনা?

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তাদের দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ নেই। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। কেউ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করলে সেটিও বিবেচনা করা হবে। এরপর দলের হাইকমান্ড প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

বর্তমান গ্যাস সংকট নিয়ে সরকার অনেকটাই চাপে রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আপনাদের দলীয় প্রার্থীদের ওপর এটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন?

জনগণ সংকটের কারণ সম্পর্কে অবগত। বর্তমান পরিস্থিতির জন্য বিএনপি বা বর্তমান সরকারকে দায়ী করার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি পরিবহনে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে। ফলে এলএনজি সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে।

বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। দিন-রাত কাজ করে টার্মিনালটি সচল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মেরামতের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই গ্যাস সংকট অনেকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।