তবে পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী মাঠের খেলা চলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ড কাপ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহীদ জিয়ার রক্তে রঞ্জিত। স্বাধীনতার ঘোষণা। সেই বীর চট্টলা প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ড কাপ টুর্নামেন্ট হবে, এটা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা।’

তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠানটি আমরা শুরু করতে চেয়েছিলাম ৯ আগস্ট। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও চট্টগ্রামে বয়ে যাওয়া বন্যার পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ, পাশাপাশি আমাদের বোর্ডের এক্সাম এখনো চট্টগ্রামে শেষ হয়নি এবং আমাদের প্রস্তুতি খানিকটা পিছিয়ে আছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গতকাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি এক মাস পিছিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেছি এবং তিনি সম্মতি দিয়েছেন। অর্থাৎ আগস্টের পরিবর্তে আগামী ৯ বা ১০ সেপ্টেম্বর করতে যাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানটিতে সারা দেশের প্রত্যেকটি উপজেলায় সবাই অংশগ্রহণ করবে। একই দিনে একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টেডিয়াম থেকে অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন হবে বলেও জানান তিনি।

প্রতিযোগিতার পুরো সূচি পিছিয়ে যাবে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রোগ্রাম চলতেই থাকবে। শুধু আমরা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনটা আমরা এক মাস পিছিয়ে দিয়েছি।’

প্রতিযোগিতার সূচি অনুসারে উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে ৯ আগস্ট এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ৬ অক্টোবর খেলা শুরু হবে। জেলা পর্যায়ে মাধ্যমিকে ২৭ আগস্ট এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ১৩ অক্টোবর এবং বিভাগ পর্যায়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ২২ অক্টোবর খেলা শুরু হবে।

এবারের প্রতিযোগিতা দেশের শিক্ষা ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হতে যাচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এ প্রতিযোগিতায় মোট ৪০ হাজার ২৩১টি প্রতিষ্ঠানের ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেবে।’

সবশেষ জাতীয় পর্যায়ে ২৭-৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের খেলা চলবে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘যেসব ইন্টারস্কুল প্রোগ্রাম আগে থেকে হতো, সেগুলোর কোনো ব্যত্যয় ঘটাইনি। বরঞ্চ আমরা আবার নতুন উদ্দীপনা নিয়ে নতুনভাবে এ প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ড কাপ দিয়ে তাদের আরো উৎসাহিত করব।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারে কিছু অঙ্গীকার রয়েছে শিক্ষায়। প্রথমত তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার সম্প্রসারণ। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এটিও আমাদের একটি অঙ্গীকার। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রীড়া ক্ষেত্রে সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করা আমাদের লক্ষ্য।’

আরো বলেন, ‘আমাদের অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্যালেন্ট হান্ট স্কিম চালু। সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পথ উন্মুক্ত করা। নারী ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা ও সুযোগ বাড়ানো। স্পোর্টস ইকোনমি সম্প্রসারণ করা। আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করা। যুবসমাজকে খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ও দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা।’

সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ও মো. এরশাদ উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।