বগুড়ায় পানিতে ডুবে প্রায়ই মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। নদীর সংখ্যা বেশি হলেও এ জেলায় নেই কোনো ডুবুরি দল। ফলে পানিতে পড়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। পানিতে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটলে রাজশাহী জেলা থেকে ডুবুরি দল নিয়ে আসতে হচ্ছে। রাজশাহী থেকে প্রায় ৩ ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে ডুবুরিদের বগুড়ায় পৌঁছানোর কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, বগুড়ায় ডুবুরি দল থাকলে অন্তত অভিযানটি দ্রুত সম্পন্ন হতো।

বগুড়া জেলা নদ-নদী দিয়ে ঘেরা। বগুড়ার পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা, বাঙালি, করতোয়া, ইছামতী, সুখদহ নদী ও নুরইলের বিল। পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নাগর নদ, ভদ্রাবতী নদী। জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলায় চলনবিলের অংশবিশেষসহ জেলায় পুকুর রয়েছে প্রায় ২০ হাজার। এসব নদ-নদী ও পুকুরে ডুবে প্রায়ই নারী-পুরুষ ও শিশু মৃত্যুর সংবাদ আসছে। এই নদীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ নিখোঁজের ঘটনা ঘটে যমুনা, বাঙালি ও ইছামতী নদীতে। এ নদীগুলো জেলার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধনুট উপজেলায় বহমান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীতে ডুবে যাওয়াদের খুঁজতে রাজশাহী থেকে ডুবুরি দল নিয়ে আসতে হয়। ফলে স্রোতে কোনো কোনো মরদেহ ঘটনাস্থল হতে অন্যত্র ভেসে যাওয়ায় তাদের আর উদ্ধার সম্ভব হয় না। নিখোঁজের পরের দিন বা  ঘটনার দু-তিনদিন পর রাজশাহী ডুবুরি দল এসে মরদেহ উদ্ধার করেছে। অথচ বগুড়ায় ডুবুরি দল থাকলে সেই উদ্ধার অভিযান আরো দ্রুত হতো।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি ফায়ার সার্ভিসের লিডার ময়েজ উদ্দিন বলেন, দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত আমরা নদী থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছি। কাছাকাছি কোনো ডুবুরি দল থাকলে দ্রুত পানিতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান পাওয়া সম্ভব।

সারিয়াকান্দি পৌরসভার মেয়র মতিউর রহমান মতি বলেন, নদীতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজতে রাজশাহী ডুবুরি দলকে কল করতে হয়। যারা শতমাইলের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে আমাদের এলাকায় আসেন। ততক্ষণে মরদেহের স্থানচ্যুতি ঘটে। আমাদের জেলায় কোনো ডুবুরি দল নেই। এ জেলায় ডুবুরি দল এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

বগুড়ার-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান জানান, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।