কাঁঠালের বীজ থেকে খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান বা মিনারেল কনসেন্ট্রেট তৈরির প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। শুকনো কাঁঠালের বীজে সাধারণত ২ শতাংশ খনিজ উপাদান থাকলেও এই নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে তা ঘনীভূত করে ৩৩ শতাংশের বেশি করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ খনিজ উপাদানের ঘনত্ব প্রায় ১৬ থেকে ১৭ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো গেছে। এরই মধ্যে এই প্রযুক্তিটি বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্পনকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) থেকে পেটেন্ট পেয়েছে।

গাকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতায় এবং গবেষকদ্বয়ের দীর্ঘ তিন বছরের গবেষণার মাধ্যমে ২০২৫ সালের নভেম্বরে এ যুগান্তকারী প্রযুক্তিটি উদ্ভাবিত হয়।

এ উদ্ভাবনের মাধ্যমে গাকৃবির মোট উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সংখ্যা ২১টি তে পৌঁছালো এবং গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যায় হিসেবে নাম পরিবর্তনের পর এটিই প্রথম পেটেন্টপ্রাপ্ত উদ্ভাবন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম কাঁঠাল উৎপাদনকারী দেশ। কিন্তু বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল উৎপাদিত হলেও এর বীজ, খোসা ও অন্যান্য অংশের বড় একটি অংশ বর্জ্য হিসেবে নষ্ট হয়ে যায়। অথচ এ বীজেই রয়েছে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নানা খনিজ ও পুষ্টি উপাদান।

গবেষণায় দেখা গেছে, শুকনো কাঁঠালের বীজে প্রায় ২ শতাংশ খনিজ উপাদান থাকলেও উদ্ভাবিত এ প্রযুক্তির মাধ্যমে তা ঘনীভূত করে ৩৩ শতাংশেরও বেশি ঘনীভূত খনিজ উপাদান বা মিনারেল কনসেন্ট্রেট তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ খনিজের ঘনত্ব প্রায় ১৬ থেকে ১৭ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যায়।

গবেষণাটি বাস্তবায়নে অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘গ্র্যান্টস ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন’ (জিএআরই) প্রজেক্ট। পরবর্তীতে এ উদ্ভাবনী গুরুত্বের স্বীকৃতি রূপ বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) থেকে পেটেন্ট লাভ করে প্রযুক্তিটি।